নির্মাতা-অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীরের ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি মুক্তির অনুমতি সাময়িক স্থগিত করেছিলো চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। ফলে সিনেমাটি হলে প্রদর্শনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন হাসান জাহাঙ্গীরের আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সিনেমাটির মুক্তির কথা ছিল গত শুক্রবার। তবে ১৩ মে সিনেমাটির সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের দেওয়া এ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহ বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রদর্শন করা যাবে না।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ১৩ মের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর ১৯ মে রিটটি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নকিব সাইফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল করিম।
এর আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তির ঘোষণার পর সিনেমাটি হলে মুক্তি দিতে আপত্তি জানান মৌসুমী। তিনি জানান, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ এক ঘণ্টার একটা নাটক ছিল। সিনেমার বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো কথা বা চুক্তি হয়নি।
এক ভিডিও বার্তায় মৌসুমী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর হাসান এসে বলে, এটার শুটিং তো বেশি হয়েছে আমারা এটা টেলিফিল্মে রূপ চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি।”
মৌসুমী বলেন, “ইদানিং খবরে দেখছি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি। বোর্ডে এটাকে কীভাবে সেন্সর সার্টিফিকেশন দিল। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমি যেখানে সিনেমাই করি না, সেখানে এরকম একটা গল্প দিয়ে আমাকে হুট পর্দায় নিয়ে আসা যুক্তিসংগত বলে মনে কারি না। আমি তো জানিই না ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’- এর আগে-পরে কী আছে। নির্মাতা ও প্রযোজকের কাছে এটা আমি মোটেই আশা করিনি।”
মৌসুমী আরও বলেন, ‘এমন অবস্থায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া উচিত কিনা তা দূর দেশ থেকে বুঝতে পারছি না। আমার মতে এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি না পাক। তার পরও বাংলাশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিসহ যারা আছেন তারা যেন বিষয়টি বিবেচনা করেন।’








