চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: সমস্যা কাহাকে বলে ও কী কী?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংগঠিত হচ্ছে৷ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ,বাম গণতান্ত্রিক জোট,১৪ দলীয় জোটের শরীক সংগঠন ওয়ার্কার্স পার্টির যুব সংগঠন বাংলাদেশ যুব মৈত্রী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সংগঠন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করে চলেছে৷ স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির অপসারণ দাবি করছে তারা৷ করোনার মহামারিকালে ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদানের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে৷ এতে করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির চরম ক্ষতি হয়েছে৷ ইতোমধ্যে ইতালি করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রাপ্তদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে৷ সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে সাহেদ করিমের গ্রেফতার ও রিমান্ডও দেশ বিদেশের গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে৷

কে এই সাহেদ করিম?প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ছবি,রাষ্ট্রপতির সাথে তার ছবি,সেনাপ্রধানের সাথে তার ছবি,আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে তার ছবি,জাসদ সভাপতির সাথে তার ছবি৷ আওয়ামী লীগের একটি উপকমিটির সম্পাদক পরিচয়ে টিভি টকশোতেও বুঝি অংশগ্রহণ করতো সে৷এই পরিচিতিটা কি আসল না ভুয়া?আসল হলে উচিত তাকে দল ও পদ হতে অপসারণ করা৷ আর ভুয়া হলে দিনদুপুরে এতবড় একটা ভুয়া পরিচয় সে কি করে দিতে পারলো উচিত তার রহস্য উদঘাটন করা৷সর্বোচ্চ স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, পুলিশের আইজিপি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের ডিজি সর্বত্রই ছিল তার আনাগোনা৷ তার হাসপাতালের লাইসেন্স নেই তবু পেয়ে গেলো করোনার বিশেষায়িত হাসপাতালের স্বীকৃতি৷ কোন ক্ষমতাবলে ও যাদু বলে সাহেদ করিম এমনটি করতে পারলো?ছবিতে দেখা যায় সাহেদ করিম মন্ত্রী ও ডিজির সাথে বসে রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে সমঝোতা স্বাক্ষর করছেন৷

বিজ্ঞাপন

এখন আবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা অস্বীকার করছেন কিভাবে?তিনি বলছেন,রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। অথচ২১ মার্চ মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে করেনাসংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। এর পরপরই উপস্থিত সচিবেরা যখন বের হয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন, তখন মন্ত্রী তাদের বসতে বলেন। এ সময় চা-নাশতাও দেওয়া হয় সকলকে। এরপরই মহাপরিচালকের কক্ষে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ঢোকেন। পরে মন্ত্রীর অনুরোধে অন্য সচিবদের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অথচ মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় এখন এ বিষয়ে কিছু জানে না বলছে৷
শুধু কি তা ই?মন্ত্রী আরও বলছে,স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সমস্যা নেই!

বিজ্ঞাপন

সংগত কারণেই প্রশ্ন জাগে তবে সমস্যাটা কার?
তিনি বলছেন,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে মন্ত্রণালয় প্রশাসনিকভাবে কোনো কাজের ব্যাখ্যা চাইতেই পারে, এটি সরকারি কাজের একটি অংশ। জিকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটুকু হয়েছে তা সরকার খতিয়ে দেখছে। সাম্প্রতিক সময় ইতালিতে ফিরেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোভিড শনাক্ত হওয়ার কারণে ইউরোপজুড়েই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা৷
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভুয়া কোভিড সনদ নিয়ে ইতালি ফেরার খবরে ইতালিতে ‘হেনস্তার শিকার’হচ্ছে বাংলাদেশিরা ৷ এতে করে কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলোনা? এই ভুয়া সার্টিফিকেট গুলো কি স্বাস্থ্য দপ্তরের সমস্যা নয়? দেশ ও জনগণের সমস্যা নয়?

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির খবর ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত সাহেদ করিম ও ডাঃ সাবরিনার গ্রেফতার,রিমান্ড ও শাস্তিতে কি বাংলাদেশ তার হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পারবে? দেশে বিদেশে এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবী উঠছে৷বাংলাদেশের এমন ভাবমূর্তি সংকটের দায় কি কেবল সাহেদ করিম ও সাবরিনার৷ স্বাস্থ্যদপ্তরের সমস্যা গোটা দেশকে বিশ্বদরবারে সমস্যায় ফেলল তবু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন সমস্যা নেই! রিজেন্ট,জিকেজির পর গুলশান ২ নম্বরের সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি ধরা পড়ল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই র‌্যাপিড কিট দিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার অভিযোগ ওঠে সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে । তাদের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠে৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ কিছু পরীক্ষা বাইরের হাসপাতাল থেকে করিয়ে এনে নিজেদের নামে চালিয়ে দেয়ার। এছাড়াও তারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে একাধিকবার মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করেছে। যা মূলত একবারই ব্যবহার করার কথা৷ তবে কি এগুলোও স্বাস্থ্যদপ্তরের কোন সমস্যা নয়!তাহলে সমস্যা গুলো কার?

ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট কেবল রিজেন্ট জিকেজি সাহাব উদ্দীন মেডিকেলেই থেমে থাকেনি৷ সিলেটেও প্রবাসীদের কাছে ভুয়া করোনা রিপোর্ট বিক্রির অভিযোগে এক চিকিৎসককে চার মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এসব কেন হচ্ছে?কিভাবে হচ্ছে?এসব যাতে না হতে পারে তেমন ব্যবস্থা তৈরি করাটাই কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়৷ এসবের দায় কি কেবল সাহেদ করিম,সাবরিনা,রিজেন্ট ও জিকেজির?মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনটাই কি মূল দায়ে দায়ী নয়? করোনা নিয়ে আতঙ্কিত পৃথিবী বাংলাদেশে করোনার রিপোর্ট জালিয়াতি দেখল৷ ভাবমূর্তি নষ্ট হলো দেশের৷ একটি লাইসেন্স বিহীন হাসপাতালকে কিভাবে করোনা টেস্টের অনুমোদন দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর৷ আর এমন পরিস্থিতিতেও মন্ত্রণালয় বলছে,মন্ত্রণালয়ের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন সমস্যা নেই৷ সংগত কারণেই প্রশ্ন করতে হয় তাহলে সমস্যা কাকে বলে ও কী কী উদাহরণ সহ দেশবাসীকে বুঝাবে কে?প্রশ্নটা বিজ্ঞজনদের বিবেকের কাছেই রইল৷

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)