চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল হবে কি?

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়াতে নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়লো না কমলো?এখন আবার শোনা যাচ্ছে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছেনা। থাকবে কি থাকবেনা এ নিয়েও মানুষের মাঝে এক ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ হতে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা ছিল।এখন তা পিছিয়ে চলে যাচ্ছে জুনে। কেন এই পেছানো তবে কি তা আইন সংশোধনের জন্য?আইন সংশোধনের  পরে কি উপজেলা,পৌর ও সিটি নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক বাতিল হচ্ছে কিনা তা জানতে মানুষ উৎসুখ হয়ে আছে। দলীয় প্রতীকের নির্বাচন কেড়ে নিয়েছে নির্বাচনের উৎসব মুখরতা।কেড়ে নিয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন প্রতিযোগিতা। একমাত্র সরকার দল ছাড়া অন্য কোন দল দলীয় প্রতীকের জন্য হুমড়ি খেয়ে ছুটছেনা। সরকার দলের নেতারা ভাবছে দলীয় প্রতীক পেলেই পাশ। তখন দল তার পাশে থাকবে। প্রশাসন পাশে থাকবে।দলের নেতাকর্মীরা তাকে পছন্দ না করলেও তাকে ভোট দেবে। আর ভোটার কেন্দ্রে না এলে নিজেরাই সিল দিয়ে দেবে। ইতোমধ্যেই প্রকাশ্য ভোটদানের রীতি গড়ে উঠেছে।

দলীয় প্রতীকে হারালো উৎসব মুখরতা। বাড়লো কর্তৃত্ববাদ। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষই ভোট কেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।দেশের সকল রাজনৈতিক দল যদি অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে পারতো।সকলেই পেতো নির্বাচনী প্রচার প্রচারনার সমান সুযোগ।নির্বাচন কমিশন যদি বন্ধ করতে পারতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার সুযোগ।তবেই দলীয় প্রতীক স্বার্থকতা পেতো। এখন অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে দলীয় প্রতীকের সকল সুবিধা নিতে পারবে কেবল ক্ষমতাসীন দল। তারা হুমকি ধমকি ও আইন শৃংখলা বাহিনীকে দিয়ে দমিয়ে রাখবে অন্য দল গুলোকে।তাদের প্রচার কাজে বাধা দেবে আবার বলবে তারা মাঠে নামতে পারছেনা। আর কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলেও সমস্যা নেই।এতে আরও সুবিধা বেশি বিনা টেনশনে ও বিনা খরচে পেয়ে যায় জিতে যাওয়ার সুযোগ। নির্বাচন কমিশন কি পারবে এসব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষনার রীতিকে বাদ দিতে।সংসদ,রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনেই সংখ্যাগরিষ্টের জয়জয়কার। কিন্তু গণভোটে কেন তা নয়?২০% ভোটার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে বাকী ৮০% এর চাওয়া কি?ভোটে বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে জনতার সংখ্যাগরিষ্ঠতার কেন মূল্য নেই?দলীয় প্রতীক সে মূল্যটাও কেড়ে নিয়ে গেল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রতীক নষ্ট করে দিলো মানুষের নির্বাচনী আস্থা।সরকার পন্থী জোটভূক্ত দল ও সরকার বিরোধী জোটভূক্ত দল কেউই আর নির্বাচনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেনা।দেশের বিশিষ্টজনরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি বরাবরে চিঠি লিখেছেন।নির্বাচন গুলো অনুষ্ঠিত হয় প্রতিদ্বন্ধিতাবিহীন।বিজয়ী ও বিজিত প্রার্থীর মাঝে ভোটের ব্যবধান থাকে আকাশ কুসুম।কিশোর গঞ্জের বাজিতপুর পৌর নির্বাচনে নৌকা পেল ১৪৬২৭  ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ পেল ৬৯৭ ভোট। কেন এই এত ব্যবধান?এই এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী সংখ্যা কত?তবে কি তারা ভোটকেন্দ্রে যায়নি?দল নির্বাচনে গেল দলীয় প্রতীক নিয়ে তবু কেন তাদের এই ভোটকেন্দ্র বিমুখতা?আসলে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাটিই আজ প্রশ্নবিদ্ধ।ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার দিন দিন আরও কমেই চলেছে। স্থানীয় পরিষদে দলীয় প্রতীক বাদ দিলে হয়তো ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।ফিরতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ঘুচতে পারে বিজয়ী ও বিজিতের অস্বাভাবিক ভোটের ব্যবধান। সেদিক বিবেচনায় দলীয় প্রতীক বাতিল হবেতো?

বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রতীক কেবল বিরোধী দলে বিপর্যয় ঘটায়নি।সরকার দলেও ঘটাচ্ছে।দলে মনোনয়ন পাওয়া না নিয়ে বাড়ছে আভ্যন্তরীন বিবাদ। ঘটছে দলীয় প্রার্থী বনাম বিদ্রোহী প্রার্থীর বিবাদ।বাড়ছে কর্তৃত্ববাদ।বাড়ছে ভোটারদের ভোট কেন্দ্র বিমুখতা।সেই সাথে বাড়ছে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার সংকট।ক্ষমতার বাইরে থাকা কোন দলই জিতে আসার মতো আস্থা রাখতে পারছেনা। ভোটাররাও ভাবছে ভোট দিলেই কি আর না দিলেই কি যার পাশ করার সেই করবে।আর সেজন্যই তারা কেন্দ্রে যেতে রাজী নয়। দলীয় প্রতীক ব্যবস্থা বাতিল করে দিলে হয়তো নির্বাচনের উৎসব মুখরতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্নতা  ফিরতে পারে। নইলে তা আরও বিপর্যয়ের দিকেই যাবে।কিন্তু সংসদে আইন সংশোধন  ছাড়াতো এই অবস্থা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। নির্বাচন পেছানো হল কি আইন সংশোধনের জন্য?

দলীয় প্রতীক থাকা উচিত না না থাকা উচিত  এ নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আবশ্যক।সংসদে অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন দলের এমপিদেরও উচিত এ বিষয়ে খোলাখুলি বক্তব্য পেশ করা।মানুষ কি চায় তাও বুঝা উচিত। সর্বোপরি  প্রয়োজন নির্বাচনের উৎসব মুখরতা ফিরিয়ে আনা।প্রয়োজন ভোটারদের ভোটকেন্দ্র মুখী করা। প্রয়োজন দল মত নির্বিশেষে প্রচার প্রচারনার সমান সুযোগ।প্রত্যেক নাগরিকেরই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার ও প্রচার প্রচারনার অধিকার রয়েছে।স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীক প্রথায় এর ব্যতয় ঘটছে। নাগরিক অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দলীয় অধিকারে।বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে দল ব্যবস্থা নিচ্ছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু এতে কি দলের আভ্যন্তরীন বিবাদ বাড়ছেনা?এক কথায় বিশৃংখলা এড়াতে, নাগরিক অধিকার রক্ষায় ও নির্বাচনের উৎসব মুখরতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীক প্রথা বাতিল।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন