চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সেফটি ফার্স্ট’ মাথায় রেখে গল্প তৈরি করতে হচ্ছে: অমি

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে করোনার মধ্যেও কাজে ফিরতে চলেছেন ছোটপর্দার নির্মাতারা…

করোনার মধ্যে ধীরে ধীরে শুটিংয়ে ফিরছেন ছোটপর্দার নির্মাতা ও শিল্পীরা। কেউ কেউ আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন। দেখছেন করোনা অবস্থা কতদূর গড়ায়! আসন্ন ঈদুল আযহা সামনে রেখে সময়ের আলোচিত নির্মাতা কাজল আরেফিন অমিও শুটিংয়ে ফেরার কথা ভাবছেন।

করোনার মধ্যে শুটিং করার বিষয়টি ‘সো টাফ’ মনে করছেন জনপ্রিয় এ নাট্যনির্মাতা। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে অমি বলেন, প্রোডাকশন নির্মাণে আগে ছিল ‘গল্প ফার্স্ট’ কিন্তু এখন ‘সেফটি ফার্স্ট’। গল্প নয়, সেফটি ফার্স্ট মাথায় রেখেই গল্প তৈরি করতে হচ্ছে। সেফটির প্রয়োজন আগে রাখছি। এটা খুবই কঠিন। তাই চাইলেও যেকোনো লোকেশনে শুটিং করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

আসন্ন ঈদে কাজল আরেফিন অমির নির্মাণে দু-একটি কাজ থাকতে পারে। তবে শুটিং হাউজে গিয়ে শুটিং করা নিরাপদ মনে করছেন না তিনি। অমির ভাষ্য, চেষ্টা করছি পরিচিত মানুষের বাসা, প্রাইভেট রিসোর্টে গিয়ে শুটিং করার এবং লোকেশন অনুযায়ি গল্প তৈরি করছি। আগেই বলেছি, সেফটির প্রয়োজনে গল্প বানাতে হচ্ছে। আগামী ঈদের জন্য কাজ করবো এটা কনফার্ম কিন্তু আগের মতো পাঁচ-ছয়টি কনটেন্ট থাকবে না।

অমি বলেন, দীর্ঘদিন ঘরে থাকতে থাকতে মানুষ হতাশায় পড়ে আছে। ঈদের সময় টিভি বা ইউটিউবে যদি নাটক বা বিনোদনের জন্য কিছু না পায় তাহলে একেবারেই উৎসব জিনিসটা অনুভব করতে পারবে না। সবদিক বিবেচনা করেই কাজে ফিরবো জুলাইতেই। মার্চের ১৬ তারিখ অফিস বন্ধ করেছিলাম। গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার অফিস করছি। সেফটি বিবেচনা করে গল্প নিয়ে কাজ করছি।

এদিকে করোনার মধ্যে ঘরে বসে প্রথমে আফরান নিশো, মেহজাবীন ও পলাশকে নিয়ে ‘ওয়েটিং’ এবং তৌসিফ, মিশু সাব্বির, শামীম হাসান সরকার, চাষি, মারজুক রাসেলকে নিয়ে ‘ব্যাচেলর কোয়ারেন্টাইন’ নামে দুটি শর্টফিল্ম নির্মাণ করেছিলেন কাজল আরেফিন অমি। শিল্পীরা যে যার বাসায় থেকে নিজেদের মুঠোফোনে ধারণ করে সেগুলো পাঠিয়ে দেয়া ও পুরো কাজের প্রক্রিয়াটা অনেক জটিল বলে মনে করেন নির্মাতা।

অমি বলেন, এভাবে কাজ করতে গেলে সময় লাগে। গল্পগুলো মনমতো শুটিং করা যায়না। এটা আসলে কাজের সঠিক পদ্ধতি নয়। পুরোপুরি এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। করোনার অবস্থা আগামিতে খারাপ হলে ঘরে বসে যদি আবার কাজ করতে ইচ্ছে হয় তাহলে হয়তো করবো। তবে কাজ দুটোর মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। যা ধারণা করেছিলাম তারচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছি।

করোনায় সবকিছুতে পরিবর্তন আসবে বলে জানাচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। ধারণা করছেন, মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন আসবে। একাধিক জনপ্রিয় নাটকের এ নির্মাতা পরিবর্তনের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই পরিবর্তন এসেছে। যে মানুষটা নতুন করে মার্কেটে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন তিনি তো করোনার জন্য পিছিয়ে গেলেন। এমন অস্থিতিশীল মার্কেটে কেউ লগ্নী করতে চাইবেন না। যারা রেগুলার কাজ করছিলেন তাদের কাজ কমে গেছে। এই প্রভাবটি আমাদের মধ্যে অলরেডি পড়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কাজ থেকে দূরে থাকার পর যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তখন অনেকেই হুমড়ি খেয়ে কাজ করতে চাইবেন। তখনই মিস ম্যাচিং হয়ে সবার মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এতে কাজের মানেও প্রভাব পড়বে। তাই কাজে ফেরার পর সুষম বন্টণের কথা মাথায় রেখে কাজ করা উচিত হবে বলে আমি মনে করি। ওই সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাজের মান ঠিক রেখে সুষম বন্টন চিন্তা করা।

কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ২’ ছিল তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক। করোনার ফলে ওই সিরিয়ালটির শুটিং করা পর্বগুলো প্রচার হয়ে গেছে। এই সিরিয়ালটির জন্য দেশ ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা নির্মাতা অমিকে জিজ্ঞাসা করছেন কবে আবার শুরু হবে। নির্মাতা জানান, প্রতিদিনই তার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টাগ্রামে দর্শকরা টেক্সটে জানতে চান ওই কাজের আপডেট সম্পর্কে।

এ প্রসঙ্গে কাজল আরেফিন অমি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে এক দর্শক ফোন দিয়ে সেদিন জিজ্ঞেস করলেন দুই সিজনে দেখে ফেলেছি। নতুন করে আবার কবে দেখতে পাবো? কেন বন্ধ হল এই সিরিয়ালটি? দর্শকের চাওয়ায় আমি যেটা ঠিক করেছি, ঈদের মধ্যে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে ঈদের পর আবার ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ২ এর শুটিং শুরু করব।