চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিনেমা ছেড়ে মঞ্চ নাটকে মনতাজুর রহমান আকবর

টাকার পাহাড়, বশিরা, কুলি, শান্ত কেন মাস্তান, গুণ্ডা নম্বর ওয়ান, বস্তির রানী সুরিয়া, আরমান, কঠিন সীমার, মেজর সাহেব, জীবনের গ্যারান্টি নাই, টপ সম্রাট-এর সুপারহিট সব চলচ্চিত্রের নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর রুপালী দুনিয়া থেকে ‘আপাতত ইস্তফা’ দিয়ে নিজ এলাকা জয়পুরহাটের স্থানীয় মঞ্চ নাটকে যোগ দিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপে মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, সিনেমা থেকে আমার মন উঠে গেছে। চলতে তো হবে। তাই নিজ এলাকা জয়পুরহাটে ফিরে এসেছি। এখানে মঞ্চ নাটকে নির্দেশনা দিচ্ছি। মাসে কমপক্ষে ১৫ দিনে মঞ্চে কাজ হয়। এতেই ভালো আছি। মঞ্চের জন্য ঢাকা টু জয়পুরহাট যাতায়াতের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

২০০০ সালের পর ভরপুর অ্যাকশন ও রোমান্টিক ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণে বেশ হাঁকডাক ছিল মনতাজুর রহমান আকবরের। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নির্মাণ করেছেন অর্ধ শতাধিক চলচ্চিত্র। নাম লিখিয়েছেন প্রযোজনাতেও। ‘কুলি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ নির্মাতার হাতে উঠে এসেছেন সাদিকা পারভিন পপি’র মতো নায়িকা।

তবু অনেকটা হতাশা ভরা কণ্ঠে এ নির্মাতা বলেন, প্রযোজকদের সংখ্যা এখন মাইনাসে চলে এসেছে। আগে যেখানে শিল্পপতি, বড় বড় চাকরিজীবীরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতেন, এখন তারা সরে গেছেন। তাছাড়া পেশাদার প্রযোজক যারা ছিলেন সেখান থেকে তারাও এখন সরে গেছেন।

যুগোপযোগী গল্পের চলচ্চিত্র হচ্ছে না। সিনেমা হল কমতে কমতে ১০০-এর নিচে নেমেছে। যেগুলো আছে, সেখানে বসে মানুষ পরিবার নিয়ে ছবি দেখতে পারে না। সরকারি সুদৃষ্টি ছাড়া চলচ্চিত্র আর ঘুরে দাঁড়াবে না! সরকারের পক্ষ থেকে শুধুই আশ্বাস পাই এটা হবে, ওটা হবে! কিন্তু হয়ে উঠছে না। আদৌ হবে কিনা এরও কোনো গ্যারান্টি নাই বলে জানান প্রয়াত মান্নাকে নিয়ে এক ডজনের বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণকারী এই নির্মাতা।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ মুক্তি পায়। যেখানে অভিনয় করেছিলেন ডিপজল, মৌসুমী, বাপ্পী, মিম। ওই চলচ্চিত্রটিও ব্যবসায়িকভাবে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত শাকিব-অপু জুটির ‘মাই ডার্লি’ এবং শাহরিয়াজ-শিরিন শিলার ‘সরি’ নামে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাধীন থাকলেও কবে শেষ হবে, এবং সেটা প্রেক্ষাগৃহে আসবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ঠ অনিশ্চয়তা। পরিচালক বললেন, ‘মাই ডার্লিং’ নিয়ে তো কম অপেক্ষা করলাম না। এখনও শুটিং বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ। আমি জানি না আদৌ চলচ্চিত্রটি শেষ করতে পারবো কিনা! এটা নিয়েও আমি চরম হতাশ।

আকবর বলেন, আরেক চলচ্চিত্র ‘সরি’-এর কাজ আর হওয়ার চান্স নেই। ‘সরি’ ছবির প্রযোজকের কথার কোনো আগামাথা নেই। খোঁজই পাইনা। গত বছর তিনি অন্য একটি চলচ্চিত্রে চরম ধরা খেয়েছেন। তারপর আবার ‘সরি’-তে বিনিয়োগ করার আগ্রহ হারিয়েছেন।

মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, চলচ্চিত্র থেকে আমার মন পুরোপুরি উঠে গেছে। আর ভালো লাগে না। ডিপজল সাহেব কিছুদিন কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ডিক্লিয়ার দিয়েছিলেন। মনে করেছিলাম আবার হয়তো কাজ শুরু করবো। কিন্তু ওইসব কাজের কোনো খবর নেই। আমারও মন ভেঙে গেছে। তাই চলচ্চিত্র থেকে সরে গেছি। গ্রামে এসে মঞ্চ নাটক নিয়ে ব্যস্ত আছি।

ম্যাক্সিমাম সময় এখানেই (জয়পুরহাট) থাকি। চলচ্চিত্রে পা রাখার আগে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ প্রায় দুইশ মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দিয়েছি। এখানে এসে আবার তাই শুরু করেছি। মঞ্চে কাজের পাশাপাশি এখানে বাড়ি করেছি। দেখাশুনা করতে হয়। এসব নিয়েই খুব ভালো আছি।