চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সরোদের সুরে অনন্যার অনবদ্য কত্থক নৃত্য

উন্মুক্ত আঙিনায় কিংবা মিলনায়তনে থেমে গেছে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা। অবরুদ্ধ সময়ে শিল্পীরা তাই বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। ঘরবন্দী জীবনে অব্যাহত রয়েছে অনেকের শিল্প চর্চা। তেমনই এক পরিবেশনার শিরোনাম ‘দ্য রাইজ অব ড্রিমস’। সরোদের সুরে অনবদ্য কত্থক নৃত্য পরিবেশনাটি ভাললাগার অনুভব ছড়িয়েছে শিল্পরসিকদের নয়নে। যন্ত্রসঙ্গীতের সঙ্গে নাচের মেলবন্ধনে মোহময় রূপ পেয়েছে পারফর্মেন্সটি। সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল কত্থক নৃত্যশিল্পী অনন্যা ওয়াফি রহমানের ফেসবুক পেজে আপলোড করা পরিবেশনাটি মুগ্ধতায় ভাসিয়েছে নৃত্যানুরাগীদের।

শাস্ত্রীয় ধারার কত্থক নাচের সমান্তরালে বেজেছে সরোদের স্নিগ্ধ সুর। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথ্যে ধাবিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে নাচ আর যন্ত্রসঙ্গীতের আশ্রয়ে। অনন্যার নাচের মুদ্রায় প্রস্ফুটিত হয়েছে অসুস্থতা কাটিয়ে প্রকৃতির সুস্থতার বারতা। অন্ধকার থেকে প্রকৃতি আবার একদিন ফিরে পাবে প্রাণ, উড়বে পাখি, ফুটবে ফুল-এমন ভাবনার আলোকে সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশনাটি। পরিবেশনার মূল ভাবনাটি ছিল অনন্যা ওয়াফি রহমানের। বর্তমান দুঃসময়কে পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্নের পুনর্জাগরণের পথে সবাই সামনে আবার এগোবে এমন প্রত্যাশায় নির্মিত হয়েছে এই পারফর্মেন্স। অস্ট্রেলিয়া থেকে সরোদে সুর ছড়িয়েছেন তানিম হায়াত খান। তার সেই ধুনের ওপর ঢাকা থেকে নাচ করেছেন অনন্যা ওয়াফি রহমান।

বিজ্ঞাপন

দ্য রাইজ অব ড্রিমস মূলত কত্থক আর সরোদের যুগলবন্দী। সরোদে উস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ সৃষ্ট রাগ ‘মান্জ খাম্বাজ’র ওপর তানিম হায়াত খানের ধুনের সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন কত্থক নাচ উপস্থাপন করেছেন অনন্যা ওয়াফি রহমান। তাদের সঙ্গে তবলায় বোল তুলেছেন সঞ্জীব মজুমদার?

নৃত্যশিল্পী অনন্যা ওয়াফী রহমান ভারতের আইসিসিআর স্কলারশিপ নিয়ে দিল্লীর শ্রীরাম ভারতীয় কলা কেন্দ্র থেকে কত্থক নৃত্যের ওপর পোস্ট ডিপ্লোমা অর্জন করেন। দিল্লীতে গুরু শিখাখের ও পদ্মভূষণপ্রাপ্ত উমা শর্মার কাছে কত্থক নাচের তালিম নিয়েছেন এই শিল্পী। অনন্যা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি ভবনে কত্থক নৃত্য পরিবেশন করে সুনাম কুড়িয়েছেন। বর্তমানে এই শিল্পী দেশে নৃত্য শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত।

তানিম হায়াত খান বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত ঘরানা সেনীয়া মাইহার ঘরানার একজন সরোদিয়া। দাদু উস্তাদ আয়েত আলী খাঁ শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত বিভাগের প্রধান ছিলেন, কাজ করেছিলেন সরাসরি কবিগুরুর সঙ্গে। বাবা সঙ্গীত গবেষক মোবারক হোসেন খান আর মা ষাটের দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফওজিয়া ইয়াসমিন।