চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কায় যেতে আপত্তি নেই ক্রিকেটারদের

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যেতে আপত্তি নেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। মুমিনুল-মুশফিকদের প্রত্যাশা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে বিসিবি।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী মাসে বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলতে যাবে কিনা সেটি জানতে উন্মুখ হয়ে আছে স্বাগতিক দেশের বোর্ড। সফরটি নিয়ে বিসিবি সিদ্ধান্ত নিতে কেনো বিলম্ব করছে সেটি কারোই অজানা নয়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার বাধ্য করেছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্তে যেতে।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন আগে ক্রিকেটারদের মত জানার চেষ্টা করেছে বিসিবি। সফরটি নিয়ে দুইরকম মত ছিল ক্রিকেটারদের। সেখান থেকে সরে এসে তারা এবার বল ঠেলে দিয়েছেন সরকার ও বিসিবির কোর্টে। স্বাস্থ্যবিধি ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই খেলতে যেতে রাজি টাইগাররা।

বিজ্ঞাপন

দেশে করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে অবনতির দিকে যাওয়ায় যদিও মাঠে ফেরার খুব বেশি তাড়া অনুভব করছেন না ক্রিকেটাররা। সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে সবার মতো আতঙ্কিত তারাও।

রোববার রাতে জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির শীর্ষ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে অনলাইন সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। আলোচনা হয় তিন মাস ধরে বন্ধ হয়ে থাকা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও। করোনা পরিস্থিতি আরও কিছুদিন বুঝে ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর দাবি জানানো হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কোয়াবের সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, সহ-সভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন, সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল। ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলেন- মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, আব্দুর রাজ্জাক, তুষার ইমরান, জহুরুল ইসলাম অমি, এনামুল হক জুনিয়র, শাহরিয়ার নাফিস, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নাঈম শেখ।

বিজ্ঞাপন

সভায় আলোচনা হয়েছে অনুশীলন নিয়েও। রোববার ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মিরপুরকে রেড জোনে চিহ্নিত করায় শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরুর চিন্তা থেকে পিছু হটেছেন তারা। জুনের মাঝামাঝি ক্রিকেটারদের অনুশীলনে আনার চিন্তা থাকলেও সেখান থেকে সরে এসেছে বিসিবি। বোর্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনুশীলনের জন্য সব তৈরি করে রাখলেও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই মাঠে ডাকা হবে ক্রিকেটারদের।

শ্রীলঙ্কা অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে অনেক আগেই। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সফল দেশটি। মাত্র এক হাজার ৮৮৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে সেখানে। মারা গেছেন ১১ জন।

ভারত জানিয়ে দিয়েছে জুনের শেষদিকে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে তারা যেতে পারবে না শ্রীলঙ্কায়। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের দিকে। বিসিবি এখনো ‘হ্যাঁ-না’ কিছু জানায়নি।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র মোহন ডি সিলভা রোববার দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বিসিবি সিদ্ধান্ত জানায়নি তাদের। গুঞ্জন রয়েছে শ্রীলঙ্কায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভালো থাকায় সফরটি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। এজন্য সিদ্ধান্ত জানাতে সময় নেয়া। বিসিবি কর্মকর্তাদের একটা বড় অংশ অ্যাওয়ে সিরিজে খেলার ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন। তিন টেস্টের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত হলে পিছিয়ে আগস্টেও নেয়া হতে পারে।

করোনা দুর্যোগের কারণে ইতোমধ্যেই দুটি সিরিজ বাতিল হয়েছে বাংলাদেশের। মে মাসের আয়ারল্যান্ড সফর ও জুনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাতিল হয়ে যায় চীন থেকে অন্যান্য দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পরপরই।

শ্রীলঙ্কা সফরও বাতিল হয়ে গেলে তামিম-মুশফিকদের খেলা দেখতে অপেক্ষা বাড়বে এশিয়া কাপ পর্যন্ত। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায়ই বসতে পারে টি-টুয়েন্টি সংস্করণের এ আসরটি। যদিও তারিখ-ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করেনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।

গত সপ্তাহে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মাঝে ভিডিও কনফারেন্সে হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা। অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে সভা করেছে আইসিসিও। সিদ্ধান্ত কোনটাই চূড়ান্ত হয়নি।