চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেরপুরের অভিশাপ আলবদর প্রধান

অনলাইন ডেস্ক: আপিল বিভাগে ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার
(রিভিউ) আবেদন খারিজের পর ফাঁসিতে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে জামায়াত ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী
জেনারেল মুহাম্মদ কামারজ্জামান।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে
চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এ রায়ের
পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই।

১৯৫২ সালের ৪ জুলাই শেরপুর জেলা সদরের বাজিতখালি
গ্রামের এক কৃষকের পরিবারে জন্ম কামারুজ্জামানের। পিতা মৌলবি ইনসান আলী সরকার। মায়ের
নাম সালেহা খাতুন। ওই সময় বর্তমান শেরপুর জেলা ছিল ময়মনসিংহ মহুকুমার অন্তর্গত একটি
থানা। এই শেরপুরেই কামারুজ্জামানের বেড়ে উঠা।

শহরের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ জামায়াত
নেতা মেট্রিক পাস করেন। ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজ থেকে। কলেজে
থাকা অবস্থাতেই তিনি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৭১ সালে কামারুজ্জামান ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর
তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ-এর ময়মনসিংহ জেলা প্রধান।  মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরে প্রথম যে আলবদর বাহিনী
গড়ে ওঠে, তার প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি।

কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে পরীক্ষামূলকভাবে গোটা
ময়মনসিংহ জেলার ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের আলবদর বাহিনী হিসেবে সংগঠিত করে সশস্ত্র
ট্রেনিং দেয়া হয়। তার নেতৃত্বে মাসখানেকের মধ্যেই ময়মনসিংহ জেলার সব ইসলামী ছাত্রসংঘ
কর্মীকে আলবদর বাহিনীর সদস্য করা।

১৯৭৩ (১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত) সালে ঢাকা আইডিয়াল কলেজ
থেকে ডিস্ট্রিংশনসহ বিএ পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে
মাস্টার্সে ভর্তি হন।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবৃত্তি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে সাংবাদিকতায় এমএ
পাস করেন।

১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ নাম পরিবর্তন করে ছাত্রশিবির
হয়। কামারুজ্জামান তখন এর সাধারণ সম্পাদক ও পরে ছাত্রশিবিরের সভাপতি হন।

রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত
থেকেছেন তিনি। সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার পর জামায়াতের মুখপত্র
হিসাবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদকও কামারুজ্জামান। জাতীয় প্রেসক্লাবের
সদস্যও ছিলেন তিনি।

 

Advertisement