চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেকড়ের সন্ধানে রেনু

সালটা ১৯৭৭ ঢাকার একটি শিশুসদন থেকে রেনুকে দত্তক নেন নেদারল্যান্ডের একটি পরিবার। এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েক বছর। ৫ বছরের শিশু রেনু ৯৪’এ এসে তরুণী। ইচ্ছে হয় ফিরবেন শেকড়ে, পরিবারের খোঁজে। তারপর কেটে গেছে অনেক বছর, কিন্তু এখনও শেকড়ের সন্ধান অধরাই রয়ে গেছে রেনুর। 

রেনু চান তার পরিবারের কাছে ফিরতে- মানিকগঞ্জের সিঙ্গড়াইয়ে। তার এমন আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি পোস্ট করেন প্রবাসী সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি তার পোস্টে লেখেন: ‘‘কিছু স্বাদ। গন্ধ। ক’টা নাম। সবকিছুই আবছা।

বিজ্ঞাপন

রেনু নামটা কাগজে আছে বলে জ্বলজ্যান্ত। বাবা মনির উদ্দিন, মা মরিয়ম বেগম। জন্ম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে। কাগজপত্রে সেভাবে লেখা। ৫ বছর বয়সে রেনুকে তুলে দেয়া হয়েছিলো রয়াল ডাচ এয়ারলাইন্স-কেএলএমে। গন্তব্য নেদারল্যান্ড।

১৯৭৭ সালের ঘটনা। ঢাকার একটা শিশুসদন থেকে দত্তক দেয়া হয় রেনুকে। ১৯৯৪ সালে তার মনে হলো শেকড়ে ফেরা দরকার। সেই থেকে এখনো উৎসের সন্ধানে রেনু। ব্যবসা নিয়ে পর্তুগালে ব্যস্ত সময় কাটালেও রেনুর মন উতলা হয়ে আছে জন্মপরিচয়ের সন্ধানে।

আজ কথা হলো রেনুর সাথে। জানালেন, তার শৈশবের কিছু স্মৃতি আবছা মনে আছে। ধনিয়ার স্বাদ, গন্ধ। তিনটা বড় বোন, আর একটা ছোট ভাই। এদের কারোর নাম খুরশিদ হতে পারে। কোন একজন খুশি (রেনুর উচ্চারণ থেকে ধারণা করা)। পানি আর আমি দুইটা বাংলা শব্দ জানা আছে রেনুর।

দত্তক বিষয়ে ডাচ সরকারের সবশেষ ঘোষণার কারণে রেনুসহ অনেকের মনে বিশ্বাস জন্মেছে, তাদের কাছে নিজেদের উৎসমূলের যে তথ্য আছে, সেগুলো সঠিক নয়। বানানো। এর মানে, কাগজে লেখা মনির উদ্দিন, মরিয়ম বেগম কিংবা রেনু নামটাও জালিয়াতি হতে পারে। কিন্তু, স্মৃতি? এই ছবি?
এই শিশু-ছবি দেখে তাকে বুঝি চেনার লোক পাওয়া যাবে না? তাও এই সোশাল মিডিয়ার যুগে? সম্ভব, যদি ছবিটা ছড়িয়ে দেয়া যায়।’’

বিজ্ঞাপন