চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ মুক্ত

রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেয়েছেন যাবজ্জীবন সাজার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, যাবজ্জীবন সাজার আসামির ২০ বছর কারাভোগ শেষ হলে কারা কর্তৃপক্ষ তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। সেই সঙ্গে তার পাওনা ছুটির তথ্যও দেওয়া হয়। এর মধ্যে জোসেফের পরিবারের পক্ষ থেকে তার অসুস্থতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা চাওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেওয়ায় জোসেফকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, রোববার আদেশ পাওয়ার পর ওইদিনই আমরা উনাকে ছেড়ে দিয়েছি।

১৯৯৬ সালের ৭ মে মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যার দায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফকে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে জোসেফ আপিল করলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগ এ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

বিজ্ঞাপন

জোসেফ ২০ বছর আগে যখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তার নামে তখন ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, খুন, অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগে অন্তত ১১টি মামলা ছিল। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান হত্যা মামলা ছাড়া বাকিগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছিল আগেই।

বুধবার রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিয়ে কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফকে শারীরিক অসুস্থতার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এই তোফায়েল আহমেদ জোসেফ। অভিজাত পরিবারের সন্তান জোসেফের বড় ভাই মেজর জেনারেল আজিজ আহমদ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক মহাপরিচালক। তাদের বাবা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ওয়াদুদ আহমেদ। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট জোসেফ বড় ভাই হারিস আহমেদের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন। নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তাদের আরেক ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু।

নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে হারিস যোগ দিয়েছিলেন যুবলীগে। তৎকালীন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও হয়েছিলেন তিনি। জোসেফ তার বড় ভাইয়ের ক্যাডার বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বপালন করেন।

এরপর থেকে মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন জোসেফ। যোগ দেন সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপে। পুরো রাজধানী তখন সেভেন স্টার গ্রুপ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ নামে দুটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করত। এভাবেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম উঠে আসে জোসেফের।

বিজ্ঞাপন