চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিল্পী সমিতির উদ্যোগে ‘বছরে ১০ ছবি’ নির্মাণের প্রস্তাব দিলেন বাপ্পী

চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে শিল্পী সমিতির কাছে চিত্রনায়ক বাপ্পীর আবদার

চলচ্চিত্রের যারা শিল্পী, তাদের সংগঠন ‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’। শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে সমস্যা সমাধান করা এই সংগঠনের কাজ। সেই সংগঠনের একজন সদস্য হিসেবে চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী শিল্পী সমিতির নেতাদের কাছে ‘বছরে ১০টি’ করে ছবি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে শিল্পী সমিতির নেতাদের কাছে এমন আবদার জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে জনপ্রিয় এই নায়ক বলেন, বেশীরভাগ শিল্পীর হাতে কাজ নেই। কাজ ছাড়া শিল্পীরা অচল। কাজই যদি না থাকে, সমিতি থেকে লাভ হবে না। বিগত দিনে দেখেছি, শিল্পী সমিতির উদ্যোগে অনেক বড় আয়োজন সফল হয়েছে। দেশের নামীদামী কোম্পানি থেকে স্পন্সর এসেছে। প্রশাসন হেল্প করেছে। বছরে এই সংগঠন থেকে ১০টি করে সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে এটাও সফল হবে বলে বিশ্বাস করি।

এ বিষয়ে বাপ্পী আরো বলেন, আমি তো নিয়মিত কাজ করছি। আমার চাওয়া, সবাই কাজ করুক। শিল্পী সমিতি বছরে কমপক্ষে ১০ টি করে ছবি নির্মাণের উদ্যোগ নিক। যারা কাজের উপযুক্ত শিল্পী, তারা দরকার পড়লে পারিশ্রমিক তিনভাগের একভাগ নিয়ে কাজ করবে। শিল্পীরা তাদের ওজন বুঝে রিমুনারেশন নিবে, তাও ছবি মুক্তির আগে বুকিং থেকে টাকা এলে সেখান থেকে টাকা দেয়া হবে, তার আগে নয়। তারপরেও ছবি হোক।

শিল্পী সমিতিকে প্রযোজকের ভূমিকায় দেখতে চান জানিয়ে বাপ্পী চৌধুরী আরো বলেন,  বছরে ওই ১০ ছবি নির্মাণের প্রোডাকশন হাউজের নামই থাকবে ‘শিল্পী সমিতি’। এখানে অনেক বড় বড় নেতা রয়েছেন। যারা এই সমিতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রবীণ অনেকেই আছেন। নবীন-প্রবীন সবাই একসঙ্গে জড়ো হোক। তাদের নিয়ে শিল্পী সমিতি বছরে কমপক্ষে ১০ টি ছবি নির্মাণ করুক।

এই ১০ টি সিনেমা হোক বাপ্পী চৌধুরী, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, ইমন, নিরব ছাড়াও যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে। সব নায়িকারাও কাজ করবেন। প্রত্যেকের ছবিতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যারা এত দূর নিয়ে এসেছেন, আজও আমাদের ভালোর কাজ করছেন যেমন ফারুক সাহেব, আলমগীর সাহেব, সোহেল রানা সাহেব, চম্পা, ববিতা ম্যাডামদের নেয়া হোক। মাল্টি কাস্টিংয়ের ছবি হবে। কর্পোরেট ক্লাইন্ট আছেন, তারা স্পন্সর দেবেন। লিখিত চুক্তি থাকবে। শিল্পী সমিতি এটা তদারকি করুক।

বাপ্পী চৌধুরী আরও বলেন, অনেক ভালো ভালো নির্মাতা আছেন, যারা কাজ ছেড়ে দূরে। ওইসব নির্মাতাদের নামেই ছবি চলতো। তাদেরকে শিল্পী সমিতির উদ্যোগে এসব ছবিতে কাজ দেওয়া হোক। তাহলে তাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাবো। শিল্পীদের কাজের ব্যস্ততা বাড়াতে এর চেয়ে আর ভালো প্রস্তাব কি দিতে পারি? শিল্পী সমিতির প্রোডাকশন থেকে ছবি হলে প্রযোজনে আমি বাপ্পী এক তৃতীয়াংশ পারিশ্রমিক নেব।

এমন প্রস্তাবে রাজী হলে শিল্পী সমিতিই উপকৃত হবে জানিয়ে ‘লাভার বয়’ খ্যাত এই চিত্রনায়ক বলেন, প্রস্তাবে যদি রাজি হয়, সবাই তো আবার নিয়মিত কাজ করবেন। দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ যা আছে ভুলে সবাই আবার কাজে ফিরতে পারবে। প্রযোজকরা আবার ছবিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাবেন। এতে ইন্ডাস্ট্রির লাভ হবে। এফডিসির মধ্যে কি হচ্ছে, এগুলো দর্শক দেখে না। দর্শক স্ক্রিনে ভালো ছবি দেখে। চলচ্চিত্রের সুদিন ফেরাতে এই উদ্যোগ নিতে পারে শিল্পী সমিতি।