‘মুসাফির ক্যাফে’ দেখার পর আমরা অনেকেই ‘প্রীতি’ চরিত্রটিকে বাহবা দিচ্ছি। প্রীতির প্রতি অদ্ভুত একটা ভালো লাগার কাজ করছে সবার। কেন জানেন? উত্তর হলো—এই ব্যস্ত জীবনে আমরা সবাই এমন এক ভালোবাসার খোঁজ করি, যা আমাদের মনে—জীবনে প্রশান্তি আনবে, কৃতজ্ঞতাবোধ জাগাবে, জীবনের প্রতি এক ধরনের মুগ্ধতা এনে দেবে।

আমরা এমন একজনকে চাই, যে আমাদের ঠিক সেভাবেই ভালোবাসবে, যেভাবে আমরা নিজেদের ভালোবাসি। আমাদের সব ভালো-মন্দকে একই ধাঁচে গ্রহণ করতে পারবে। আর প্রীতি ঠিক সেটাই করছিল চন্দ্রের জন্য। সে জানে—চন্দ্রের মনের গভীরে কোথাও না কোথাও এখনও সুধার প্রতি ভালোবাসা রয়ে গেছে। প্রীতির তাতে ঈর্ষা নেই, কিন্তু দিনশেষে একজন মানুষের পক্ষে এটা মেনে নেওয়াটাই নিশ্চয়ই খুব কষ্টের ছিল। কারণ প্রীতি বুঝতে পারে, সে চন্দ্রকে যেভাবে ভালোবাসে, চন্দ্র তাকে ঠিক সেভাবে ভালোবাসে না। তবুও প্রীতি চন্দ্রের পাশে থাকে। নিজের ট্রাভেলিংয়ের স্বপ্নকে কিছুটা থামিয়ে রাখে। চন্দ্রকে নিয়ে একসাথে মুসাফির ক্যাফে প্রসারে নিজের মেধা কাজে লাগায়।
এখানেই প্রশ্নটা উঠে আসে—আমরা সবাই প্রীতিকে অনেক বেশি ভালোবাসি, আমরা তার মতো ভালোবাসা পেতেও চাই। কিন্তু আমরা কেউ আসলে প্রীতি হতে চাই না। কারণ প্রীতি হতে সাহস লাগে, ধৈর্য লাগে! সবার পক্ষে প্রীতি হওয়া কঠিন।
আসল ভালোবাসা তো সেটাই, যেখানে লজ্জা থাকে না, শর্ত থাকে না। থাকে একটা কঠিন রাস্তা, যে রাস্তায় একদিন যখন প্রীতি চন্দ্রকে জিজ্ঞেস করবে, ‘চন্দ্র, আর ইউ হ্যাপি?’
তখন চন্দ্র যেন উত্তরে এটা না বলে—‘ইউ আর মাই রিয়েলিটি’ অথবা ‘আই অ্যাম গ্রেটফুল!’
সেই উত্তরটা যেন হয়—‘ইয়েস প্রীতি, আই অ্যাম হ্যাপি!’








