চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শান্তকে ‘ফাইটার ক্যাপ্টেন’ বলছেন সাইফউদ্দিন

নাজমুল হোসেন শান্তর মাঝে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ অধিনায়কের ছবি দেখছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই শান্তর নেতৃত্ব উপভোগ করে আসছেন। চলতি বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপেও ব্যতিক্রম হয়নি সেটির।

বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপে নিজেকে দারুণভাবে খুঁজে পেয়েছেন শান্ত। ব্যাটসম্যান হিসেবে মেলে ধরেছেন ডানা। সর্বোচ্চ রান, স্ট্রাইকরেট ও ছয়ের মারে আসরটির এখন পর্যন্ত সেরা তিনিই। ব্যাটসম্যান হিসেবে তো বন্দনা চলছেই, অধিনায়কত্বও প্রশংসিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ৭ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ দলের আসরে টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকলেও শান্তর সামনে থেকে দেয়া নেতৃত্ব দলকে উজ্জীবিত করছে বলে মনে করেন সাইফউদ্দিন। পেস অলরাউন্ডার বলছেন, ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে একদিন বাংলাদেশের নেতৃত্ব আসবে শান্তর কাঁধে।

‘কোনো সন্দেহ নেই। সে(শান্ত) একজন ফাইটার ক্রিকেটারই নয়, একজন ফাইটার অধিনায়কও। মাঠে ও যেভাবে ফিল্ডিং সাজায়, অধিনায়কত্ব করে এবং গোটা দলকে অনুপ্রেরণা যোগায়, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

‘আমরা অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে ওকে দেখে আসছি। সেই ২০১০ সাল থেকে। ও আর (মেহেদী হাসান) মিরাজ একসঙ্গে ছিল। ওই সময় হয়ত মিরাজ বেশি নেতৃত্ব দিত। কিন্তু মিরাজ চোটে থাকলে বা অসুস্থতার কারণে কোনো ম্যাচ খেলতে না পারলে শান্তই বেশিরভাগ সময় অধিনায়কত্ব করত।’

বিজ্ঞাপন

‘আসলে আমরা মিরাজ ও শান্ত দুজনের নেতৃত্বই ছোটবেলা থেকে উপভোগ করতাম। শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করছে, যদি সে ধারাবাহিক থাকে, চার-পাঁচ বছর পর (জাতীয় দলের) নেতৃত্ব হয়তো সে-ই পাবে। যদি দেখেন, হাই-পারফরম্যান্স দল, ‘এ’ দল, সব জায়গায় সে নেতৃত্ব দিয়েছে। নিশ্চয়ই ওর মধ্যে নেতৃত্বগুণ আছে বলেই দায়িত্ব পাচ্ছে।’

‘এখনও কিন্তু সে মাঠে অসাধারণ অধিনায়কত্ব করছে, কিন্তু ম্যাচের ফল হয়তো আমাদের দিকে আসছে না। মাঠের ভিতরে-বাইরে মিলিয়ে ও যেভাবে সবাইকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে, সেটা অসাধারণ।’

৭ ম্যাচে ২৯০ রান। এক সেঞ্চুরি, দুই ফিফটি। বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শান্ত। সবচেয়ে বেশি ২১টি ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের প্রতিফলন ঘটেনি দলীয় ফলাফলে। বঙ্গবন্ধু কাপে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খুব কাছে গিয়ে হেরেছে রাজশাহী।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপক্ষে মুখোমুখি প্রথম দেখায় তারা হেরেছে মাত্র ১ রানে। নিজেদের শেষ ম্যাচে ২২০ রানের পাহাড় গড়েও বরিশালের কাছে হেরেছে। সেই ম্যাচেই অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। অধিনায়ককে জয় উপহার দিতে পারেননি সতীর্থ বোলাররা। এজন্য আক্ষেপের শেষ নেই সাইফউদ্দিনের।

‘ম্যাচের পর ও(শান্ত) স্বাভাবিক ছিল। আমি আর মেহেদী রাজশাহী টিমের মেইন বোলার। আমরা যখন ৮ ওভারে ৮০ রান দেই। আসলে স্বাভাবিক একটা অসাধারণ ইনিংস খেলা ক্রিকেটারকে জয় উপহার দিতে পারিনি। এই জিনিসটা ওর কেমন খারাপ লেগেছে জানি না। কিন্তু আমার নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছিল।’

‘যদি আরেকটু ইকোনমিক্যাল হতে পারতাম। পাওয়ার-প্লে’তে একটা দুইটা উইকেট বের করে দিতে পারতাম। শান্ত যে ইনিংসটা খেলেছে, জয় প্রাপ্য ছিল। ইমন অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। তারপরও অনেক খারাপ লাগছিল, সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা ছিল না। যদি সুযোগ আসে চেষ্টা করবো এই ভুলগুলো যেন আর না করি।’