চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লোক হাসানো অবশ্যই কঠিন কাজ, তবে এটার মধ্যে আনন্দ আছে’

১৫ মার্চ থেকে চ্যানেল আইয়ে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ভিত্তিক টেলিভিশন রিয়েলিটি শো জিপিএইচ ইস্পাত ‘এসো রোবট বানাই’

প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠবে আগামীর বিশ্ব। তাই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে রোবটের বিকল্প নেই। এমনটাই মনে করছেন প্রযুক্তিবীদরা। দেশের বিজ্ঞান ভাবনাকে এগিয়ে নিতে এবং ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের প্রতিভা যেন ছড়িয়ে দিতে পারে, তাদের জন্যই গেল বছর থেকে চ্যানেল আইতে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক টেলিভিশন রিয়েলিটি শো জিপিএইচ ইস্পাত ‘এসো রোবট বানাই’। আসছে মার্চের ১৫ তারিখ থেকে প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত ৯টা ৩৫মিনিটে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় সম্প্রচার হবে রোবটিক্স নিয়ে মেধাভিত্তিক এই টিভি রিয়েলিটি শো। যার উপস্থাপনায় আছেন প্রখ্যাত উপস্থাপক ও বিশ্বখ্যাত কমেডিয়ান নাভিদ মাহবুব। ‘এসো রোবট বানাই’ এবং বিশ্বব্যাপী তার উপস্থাপনার বিষয় নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি:

বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের কমেডি শোগুলোর উপস্থাপনায় সাধারণত আপনাকে দেখা যায়। সেই হিসেবে ‘এসো রোবট বানাই’ এর উপস্থাপনার বিষয়তো তুলনামূলক একটু বিদঘুটে? 
দেখুন, আমি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। এবং আমি আমার মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর ইউনিভারসিটি থেকে। এবং সেখানে প্রায় ১৫-১৬ বছর চাকরি করেছি একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই। সেখানে বেশ কিছু কোম্পানিতে চাকরি করেছি, সেই সাথে বাংলাদেশে আসার পর আমি আইবিএম বাংলাদেশ ও নোকিয়া নেটওয়ার্কস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ছিলাম। সেই সূত্রে এই ক্ষেত্রটি আমার খুবই পরিচিত, কারণ আমি একজন ইলেক্ট্রক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং যারা রোবট নিয়ে কাজ করেন তারা মূলত এক ধরনের ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারই, সেই সাথে এখানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার সাইন্স ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের বেশ কিছু বিষয় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত ভাবে আমি আসলে রোবটিক্স নিয়ে কোন কাজ করিনি। তবে রোবট বানাতে যা যা বিষয়ে কাজ করা হয় তার বেশির ভাগ জিনিস নিয়েই আমার কাজ করা। তো যেসব বিষয় বস্তু নিয়ে এই রিয়েলিটি শোতে আলাপ আলোচনা করা হচ্ছে তার সাথে আমার পরিচিতি আছে।

এজন্যই অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক আপনি?
আমার মনে হয় মূলত তিনটি কারণে ‘এসো রোবট বানাই’ এর উপস্থাপক আমি। কারণগুলো বলছি, প্রথমত রোবট বানানো বিষয় কিংবা এই ক্ষেত্রটার সাথে আমার মোটামুটি ভালো পরিচয় আছে। দ্বিতীয়ত, আমি উপস্থাপনা করি। তৃতীয়ত, উপস্থাপনায় আমি বিষয় বৈচিত্র মাথায় রেখে রসকষ মিশিয়ে কথা বলতে পারি।

এসব বিষয়ে আমার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার কারণে ছেলে-মেয়েরা রোবটিক্স নিয়ে যা করছে, সেই সম্পর্কে জ্ঞান রেখে একটু হিউমার মিশিয়ে প্রাসঙ্গিক ভাবেই মজা করা যায়। হয়তো এ কারণেই আমাকে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করতে ডাকা হয়েছে।

‘এসো রোবট বানাই’ এর মতো এরকম রিয়েলিটি শো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কতোটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় আপনার?
‘এসো রোবট বানাই’ এর মূল প্রবর্তক মেহেদী শামস। যিনি সিআরআইডি’র প্রধান বা প্রেসিডেন্ট। তার সাথে আমার এসব বিষয়ে কথা হয়েছে। মূলত রিয়েলিটি শো বলতে সবাই ই বুঝে যে এটি বাস্তব নিয়ে একটি অনুষ্ঠান। আর রোবট নিয়ে মানে রোবট নিয়েই বাস্তব এই অনুষ্ঠান।  তো এই অনুষ্ঠান প্রকৌশলীরাও দেখবে আবার ছাত্র ছাত্রীরাও দেখবে, আবার অনেকই আছেন যারা বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানেন না তারাও দেখবেন। আবার এমন লোকও আছে যারা এই বিষয়টি কল্পনাও করতে পারেননি তারাও দেখছেন। যদিও সবাই বিষয়টি নিয়ে সবকিছু বুঝবেন না। এমনকি আমি নিজেও সব বুঝি না। কিন্তু চোখের সামনে আমরা যখন কিছু দেখি তা কিছুটা হলেও বুঝতে পারি। ‘এসো রোবট বানাই’ শোতে অনেক ছেলে মেয়েই অনেক কিছু বানিয়ে নিয়ে আসছে যা খুবই বিস্ময়কর। যেগুলো দেখে দর্শকরাও অনেক উৎসাহ পায়। অনেক ছেলে মেয়েই আছে যারা জীবন নিয়ে অনেক হতাশ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পরেছে। তারা যদি এমন একটি শিক্ষনীয় শো দেখে জীবনের অন্ধকার দিক থেকে সরে এসে এমন কিছু বানানোর উদ্যোগ নেয় তবে সেটিই অনেক বড় পাওয়া হয়ে ধরা দিবে। এই ধরণের শো থেকে মূলত তারা এমন অনুপ্রেরণা পাবে বলে আশা করছি।

দেশে রোবটের ভবিষ্যৎ আসলে কেমন হবে?
রোবটের ভবিষ্যত কেমন হবে এটার উওর আসলে এর বিশেষজ্ঞরাই ভালো দিতে পারবে। তবে আমরা তো আমাদের চলমান জীবন থেকেই দেখতে পাচ্ছি যে দিন যতই যাচ্ছে আমাদের জীবন ততই সয়ংক্রিয় হচ্ছে।প্রযুক্তির কারণে আমাদের জীবন যাত্রা অনেক সহজ হয়েছে। রোবটের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই ধরণের। দিন যত যাবে আমাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রযোজনীয়তাও বৃদ্ধি পাবে। তবে অনেকে এটি ভাবতে পারে যে রোবট ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে, এই ধারনাটি সঠিক নয়। কারণ আমার মনে হয় তখন মানুষের কাজের ক্ষমতা আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

বলা হয়, লোক হাসানো কঠিন কাজ। আপনিতো দেশে-বিদেশে প্রচুর কমেডি শো করেন, আপনার কি মনে হয়?
লোক হাসানোতো অবশ্যই কঠিন কাজ, তবে এটার মধ্যে আনন্দ আছে, যখন লোকজন সত্যি সত্যিই হাসে। আর কঠিন এজন্য যে, যে মানুষটিকে আমার হাসানোর দায়িত্ব সে কি চিন্তা করে, সে কি পছন্দ করে এগুলো নিয়ে চিন্তা করে তার পালস বুঝে কথা বলতে হয়।

আপনার উপস্থাপনা ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন…
বর্তমান দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নিয়মিত ‘নাভিদ মাহবুব শো’ নামে একটি অনুষ্ঠান করছি।যেখানে আমি উপস্থাপনা করি। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে মজা করে একটু কথা বলি। একজন অতিথি থাকেন, তার সাথেও মজা করে কথা বলি, স্ক্রিপ্ট ছাড়াই। সামনে দর্শক থাকেন। টেলিভিশন শো ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করার ডাক আসে, সেগুলো নিয়মিত করছি। ‘স্ট্যান্ড আপ কমেডি’ করি। সেটা দেশে ও দেশের বাইরেও করি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমি কমেডি শো করেছি। দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংলিশ ডেইলিতে আমি প্রতি সপ্তাহে একটি হিউমার কলাম লিখি। নাভিদ’স কমেডি ক্লাব নামে একটি ক্লাব চালাই।

Bellow Post-Green View