চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লিখনকে ‘ওয়ার্ল্ডক্লাস স্পিনার’ বলেছেন রশিদ

চট্টগ্রাম থেকে: নেটে সময় নিয়ে বোলিং দেখার পর জুবায়ের হোসেন লিখনকে ‘বিশ্বমানের স্পিনার’ আখ্যা দিয়েছেন রশিদ খান। বল ডেলিভারির সময় কব্জি যাতে আরেকটু দ্রুত ঘোরাতে পারেন সেজন্য টোটকা হিসেবে দিয়েছেন বিশেষ এক ধরণের ড্রিল। বিশ্বসেরা লেগস্পিনারের কাছ থেকে পরামর্শ ও উৎসাহ পেয়ে হারিয়ে যেতে বসা লিখনের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

‘মিরপুরে আফগানিস্তানের শেষ অনুশীলনে ইনডোরে রশিদের সঙ্গে একঘণ্টা বোলিং করেছি।’ সে বলেছে, ‘তোমার গুগলি অসাধারণ। সবই ঠিক আছে। তবে রিষ্ট আরেকটু দ্রুতগতিতে ব্যবহার করতে পারলে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করা সম্ভব। আমার মনে হয়েছে ‍তুমি ওয়ার্ল্ডক্লাস স্পিনার।’

বিজ্ঞাপন

‘তবে একটা ব্যাপার নিয়ে রশিদ খুব হতাশ। যখন জেনেছে আমি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ম্যাচ খেলার সুযোগই পাই না। সে বলেছে, ‘একজন লেগস্পিনারের ভালো করতে প্রচুর ম্যাচ খেলা দরকার। আমিও শুরুতে ম্যাচ পেতাম না। যখন সুযোগ পেতে থাকলাম রাতারাতি বোলিং অনেক ভালো হতে শুরু করল। টানা খেলার মধ্যে থাকলে যেটা হয়, এখন যেভাবেই বোলিং করতে চাই সেভাবেই বল ছাড়তে পারি। ইমরান তাহিরের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে শুরুতে, ম্যাচ পেত না। যখন পাওয়া শুরু করল সে হয়ে উঠল বিশ্বসেরা। লেগস্পিনারদের ক্ষেত্রে ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজের আগে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে রশিদ খানের নজরে আসেন লিখন। আফগানদের বিপক্ষে বিসিবির একাদশের হয়ে ১৭ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না পেলেও এই লেগির বোলিং মনে ধরে রশিদের। ম্যাচ শেষে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে কথা হয় তাদের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর সময় শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রশিদ আফগানিস্তানের অনুশীলনে আসার আমন্ত্রণ জানান লিখনকে। আফগানিস্তান দল এখন আছে চট্টগ্রামে। ঢাকায় ফিরে লিখনকে নিয়ে আরও একটি সেশন করবেন রশিদ। হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিতই হচ্ছে তাদের যোগাযোগ।

ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে খুব অল্প সময়ে বিশ্বতারকা বনে গেছেন রশিদ। ২০১৫ সালের শেষদিকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু এই লেগস্পিনারের, এখন আফগানিস্তানের অধিনায়ক। লিখনের ক্যারিয়ার শুরু হয় রশিদেরও বছরখানেক আগে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে আছে চার বছর ধরে। জাতীয় দলে ১৩ মাসের পথচলায় খেলেছেন ৬টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও একটি টি-টুয়েন্টি।

টেস্টে ভালো করতে থাকা লিখনকে একটি টি-টুয়েন্টি খেলিয়েই ছুঁড়ে ফেলা হয় দল থেকে। কোনো এক অজানা কারণে আর জাতীয় দলে ডাকা হয়নি তাকে। ফেরার রাস্তা তৈরি করতে খেলতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেট। কিন্তু সেখানে চরম ব্রাত্য এই লেগি। বছরে একটি, দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আসে। সবশেষ এসেছে বিসিবি একাদশের মাধ্যমে। ‘এ’ দল কিংবা এইচপি দলে ঠাঁই না হওয়ায় নিজেকে মেলে ধরার সুযোগও সীমিত।

লিখন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার বেশ কিছুদিন পর লেগস্পিনার হিসেবে তানবীর হায়দারকে সুযোগ দেয় বিসিবি। জায়গা ধরে রাখতে পারেননি তিনিও। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে ২ ওয়ানডে খেলে বাদ পড়েন দল থেকে। গেল তিন বছর লেগস্পিনার ছাড়াই খেলে গেছে বাংলাদেশ। যদিও এই সময়টায় একজন লেগ স্পিনারের অভাব ঠিকই অনুভব করেছে গোটা দল।

অবশেষে বিস্ময় জাগিয়ে এসেছেন ১৯ বছরের তরুণ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকে কিপটে বোলিংয়ের পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়ে লেগস্পিনে জাগিয়েছেন নতুন আশা। নিজে না হোক একজন লেগস্পিনার অন্তত দলে আছে এটি ভেবেই স্বস্তি বোধ করছেন লিখন। লেগস্পিনারকে দলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হলে একদিন হয়তো লিখনের জন্যও খুলে যাবে বন্ধ দরজা!

Bellow Post-Green View