চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে না ফিরতে সহযোগিতা করছে কারা?

রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হওয়ায় মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই রোহিঙ্গারা যখন মিয়ানমারে ফিরতে চায় না, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সহযোগিতা করছে কারা? তাদের কি চিহ্নিত করা গেছে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কথায় এ বিষয়ে আশ্বস্ত হওয়া যায়। তিনি বলেছেন: কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে। তারা কিভাবে সহযোগিতা করছে তা জানতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আসছে। তারা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য বেশ কিছু এনজিও ও ব্যক্তি তাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং এশিয়াসহ পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে এর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। মিয়ানমারের খামখেয়ালির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাও এখানে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসা, দেশীয় অস্ত্র মজুদসহ নানা ধরনের অপরাধ করছে। ইতোমধ্যে সমাবেশও করেছে রোহিঙ্গারা। তারা যেন আর সে সুযোগ না পায়, কেউ যেন রোহিঙ্গাদের নেপথ্য থেকে সহযোগিতা করতে না পারে সেজন্য পুলিশ-র‌্যাব ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেউ দোষী হলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, বিশেষ করে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি এনজিও বন্ধ করা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ফোন ও ইন্টারন্টে সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও সরকারের এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে আমরা আশা করি।

একইসঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বাধ্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিকল্প নেই। আর এখানে দীর্ঘমেয়াদে যে রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গা হবে না, এটা তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। তারা মিয়ানমারের নাগরিক, মিয়ানমারেই তাদের ফিরে যেতে হবে। মিয়ানমার সরকারের কাছে তাদের যেসব দাবি রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানে গিয়ে সেগুলো আদায় করতে হবে। এই বাস্তব নীতির বাইরে রোঙ্গিাদের যারা প্রশ্রয় দেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Bellow Post-Green View