ইট-কংক্রিটের যান্ত্রিক শহরে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ, তখন পিঠার ঘ্রাণ, কবিতার শব্দ আর গানের সুরে জমে উঠল এক সন্ধ্যা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘কবিতা, পিঠা ও গান : মিলনে-আনন্দে গুণীজন’ সম্মাননা অনুষ্ঠানে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজন।
দেশের খ্যাতিমান কবি, গীতিকবি ও বাচসাস সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি। নানা ধরনের পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। ব্যস্ত নাগরিক জীবনের বাইরে গুণীজনেরা মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।
বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণের উপস্থাপনায় শুরু হয় কবিতা পাঠের আসর। দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের কবিরা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। কবিতায় উঠে আসে দ্রোহ, প্রেম ও বাংলার চিরায়ত প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ।
কবিতার পর শুরু হয় গানের আয়োজন। গীতিকবিদের লেখা জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করেন প্রবীণ ও নবীন শিল্পীরা। জয় শাহরিয়ার, কামরুজ্জামান রাব্বি, নদী, কাজী শুভ, মুহাম্মদ মিলন, রাইসা খান, অভী তালুকদার ও কানিজ সুবর্ণার পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। অনেকেই শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।
অনুষ্ঠানে বাচসাসের কবিদের মধ্যে আতাহার খান, শিহাব সরকার, মাহমুদ শফিক, হাসান হাফিজ, আব্দুল হাই শিকদার, শামীমা চৌধুরী, আবদুর রহমান, হাসনাইন সাজ্জাদী, দিলদার হোসেন, রেজাউদ্দিন স্টালিন, শান্তা মারিয়া, দুলাল খান, সাইদ আহমেদ, সেলিনা শিউলী ও দীপংকর দীপককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা পান গীতিকবি সাহাবুদ্দিন মজুমদার, জাহিদ আকবর, মাহমুদ মানজুর, রবিউল ইসলাম জীবন, রেজাউর রহমান রিজভী, তারেক আনন্দ, ওমর ফারুক ও আশিক বন্ধু। বাচসাস কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
আনুষ্ঠানিকতার বাইরে পুরো আয়োজনের বড় অংশজুড়ে ছিল মিলন ও আনন্দ। দীর্ঘদিন পর সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ একই ছাদের নিচে মিলিত হওয়ায় তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। কুশলবিনিময়, সেলফি ও আড্ডায় একে অপরের সঙ্গে সময় কাটান অতিথিরা।
আয়োজন প্রসঙ্গে বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল বলেন, ‘সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ এবং গুণী মানুষদের সম্মান জানাতে ও তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতেই এই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি আমাদের সদস্য এবং দেশের প্রথিতযশা গুণীজনদের একই ছাদের নিচে এনে আনন্দের কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে।’
তারা বলেন, কবিতা ও সুরের শক্তি মানুষকে তার সংস্কৃতির শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভবিষ্যতেও বাচসাস এমন নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাচসাসের সহসভাপতি সালাম মাহমুদ, সহসাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, অর্থ সম্পাদক রুহুল সাখাওয়াত, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মতিহার, আন্তর্জাতিক ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবু হুরায়রা মুরাদসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মহাসচিব ও বাচসাস সদস্য লিটন এরশাদ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশের সভাপতি কাদের মনসুর, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহসভাপতি ডি এ তায়েব, চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তিসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।







