চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রুশ-মার্কিন নতুন দ্বন্দ্ব কোথায় নিয়ে যাবে বিশ্বকে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য মস্কোর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়ার পর রাশিয়া শুক্রবার এর সমুচিত জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে প্রকাশিত খবরে জেনেছি। মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, মস্কোর ৩৫ কূটনীতিককে ৭২ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দেশটির দুটি কার্যালয় বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।ওবামা আরো কিছু গোপন পদক্ষেপ নেয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মস্কো সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এ ধরণের অভিযোগের কোন প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র পায়নি। একইসঙ্গে মস্কো তাদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কঠোর পদক্ষেপের জবাব দেয়ারও অঙ্গীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশ থেকে ৩৫ জন মার্কিন কূটনীতিককে পাল্টা বহিষ্কারে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে পরামর্শ দেন। তবে এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন কোন কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে না তার প্রশাসন। কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনাকে ফাঁদ হিসেবে দেখছেন পুতিন। তিনি বলে দিয়েছেন, কোন উষ্কানিতে প্রভাবিত হচ্ছেন না তিনি। পরিস্থিতি যা আঁচ করা যাচ্ছে এ ধরণের ঘটনাপ্রবাহ অদূর ভবিষ্যতে চলতেই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে আজকের দিনের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, সেটা দৃশ্যমান ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ভেতরে নাড়াচাড়া হচ্ছিলো। আগের ছোটখাটো কম্পন আমরা বুঝিনি কিন্তু রাজনীতির মাঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি এবং তার সাফল্য সবাইকে নাড়া দিয়েছে। যে ভূমিকম্প আমরা টের পাইনি। ২৫ বছর আগের সোভিয়েত ইউনিয়ন যুগের পরিস্থিতি চলছে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে।ওবামা প্রশাসনের অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে রাশিয়ার ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার বিষয়টি আরো প্রতিষ্ঠিত হয়। কূটনীতিক বহিষ্কারের মাধ্যমে বিষয়টি এক প্রকার স্বীকার করে নিলো যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ওবামা প্রশাসন শিষ্টাচার মেনে কাজটি করলো কি? নাকি মার্কিন-রাশান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের বৈরিতাকে আরো খানিকটা উষ্কে দিলো। আর বিশ্বের একক ক্ষমতাধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা কী মুখ থুবড়ে পড়লো না? দুই দেশের নেতিবাচক সম্পর্কের কারণে সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। ৩৫ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার ৮০’র দশকের সোভিয়েত-মার্কিন সম্পর্ককে মনে করিয়ে দেয়। এটা দ্বিপাক্ষিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও সারা বিশ্বে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশও আশঙ্কা করছে যে, এই বৈরিতা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।বাংলাদেশকেও খুব কাছে থেকে খুব গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরিস্থিতি সামনে কোন দিকে যাচ্ছে সেটা দেখতে হবে। সাদা চোখে বোঝা যায়, এই দুই পরাশক্তির সম্পর্ক যতো অবনতি হবে ততো ভুগতে হবে গোটা বিশ্বকে।

Bellow Post-Green View