চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিয়ালের যে ‘অভিশপ্ত’ তালিকায় যোগ দেয়ার অপেক্ষায় হ্যাজার্ড

২০১৯ সালে ১০০ মিলিয়ন ইউরোয় চেলসি থেকে এডেন হ্যাজার্ডকে কিনেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে নিজের নামের ঝলক এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেননি বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। কারণ চোট! রিয়ালের হয়ে দেড় মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে, হয়তো সামনেও থাকতে হবে!

রিয়ালের একটা অভিশপ্ত তালিকা আছে। যার নামগুলো দেখলে শুধু হাহাকারই বৃদ্ধি পায় ভক্তদের। সেই অভিশপ্ত দলটিতে যারা আছেন, সবাই কম-বেশি দলবদলের রেকর্ড গড়ে বার্নাব্যুতে এসেছিলেন। কিন্তু নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। সবাই একই ঘাতকের শিকার, চোট।

রবার্ট প্রসিনেচকি
১৯৯১ সালে রেডস্টার বেলগ্রেডকে ইউরোপিয়ান কাপ জিতিয়ে চোখে পড়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের। ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারকে ভাবা হচ্ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ। এমন রত্নকে হেলায় না হারিয়ে ওই মৌসুমেই কিনে নেয় রিয়াল।

মাদ্রিদে আসতেই অভিশাপ ভর করে প্রসিনেচকির উপর। দাঁতের মাড়িতে পাইরিয়া বাঁধিয়ে যোগ দিয়েছিলেন রিয়ালে। চিকিৎসক দেখিয়ে সেই রোগ সারানো গেলেও পরের নয় মাসে পাঁচবার পড়েন চোটে, সবগুলোই মাংসপেশির। বারবার চোটে পড়তে পড়তে একটা সময় আত্মবিশ্বাসই হারিয়ে বসেন, বাধ্য হন রিয়াল ছাড়তে।

জোনাথন উডগেট
২০০৪ সালে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল থেকে রিয়ালে আসেন ইংলিশ ডিফেন্ডার উডগেট। লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সি গায়ে মাঠে নামার আগেই বাম ঊরুর চোটে মাঠের বাইরে চলে যান ১১ মাসের জন্য। একবছর পর ২২ সেপ্টেম্বর অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় রিয়ালের জার্সি গায়ে।

মাত্র ৬৬ মিনিট খেলতে পেরেছেন উডগেট, বিলবাওয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে। এক ম্যাচেই আবারও পড়লেন চোটে। সব মিলিয়ে ১৪ ম্যাচ খেলার পর দুই মৌসুম পর রিয়ালের হয়ে ক্যারিয়ারে যতি পড়ে যায় এ ডিফেন্ডারের।

আরিয়ান রোবেন
হোসে মরিনহোর চেলসিতে নজর কেড়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাড়ি জমান ডাচ ফরোয়ার্ড। এসেই একের পর এক চোট। হ্যাজার্ডের মতোই ঘন ঘন চোটে পড়তেন রোবেন। লম্বা সময়ের জন্য নয়। কিছুদিন বাদে চোট থেকে সেরে মাঠে ফিরলেও খেলার ছন্দ খুঁজে পেতেন না।

বিজ্ঞাপন

তাই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় বায়ার্ন মিউনিখে। সেখানেই ঘুরে যায় ক্যারিয়ারের মোড়। জার্মান ক্লাবটির হয়ে পরে নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন রোবেন।

কাকা
২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর থেকেই কাকার দিকে নজর ছিল রিয়ালের। আরেক গ্যালাক্টিকোস গড়ার আশায় ২০০৯ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে এ ব্রাজিলিয়ানকেও এসি মিলান থেকে বার্নাব্যুতে নিয়ে আসেন তখনকার ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

স্পেনে এসে এসি মিলানের সেই ফর্ম হারিয়ে বসতে থাকেন কাকা। নিয়ন্ত্রিত জীবনে অনেক ফুটবলারের আদর্শ এ ব্রাজিলিয়ান শিকার হন একের পর এক চোটের। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো তার নাম দিয়ে বসে ‘বিশ্বকাপ’! অনেকেই ভাবতেন, ২০১০ বিশ্বকাপের জন্য নিজের সেরাটা জমিয়ে রাখছেন সাবেক বিশ্বসেরা তারকা।

বিশ্বকাপেও তার ঝলকানি দেখা যায়নি। আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকেন রিয়ালেও। পরে একটা সময় হোসে মরিনহোর দল থেকে নিয়মিত বাদ পরে জায়গা হয় বেঞ্চে। বার্নাব্যু ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন প্রিয় মিলানেই।

গ্যারেথ বেল
বেলের রিয়াল ক্যারিয়ারকে ভাগ করা যায় দুভাবে। প্রথম ভাগে অসাধারণ কিছু গোল আর মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন রিয়াল সমর্থকদের। তাকে নিয়ে বাড়তে থাকে প্রত্যাশার পারদ।

দ্বিতীয় ভাগে এসে চোট তাকে বানিয়ে রাখে সাইড লাইনের খেলোয়াড়। সাত বছরের রিয়াল ক্যারিয়ারে ৮বার বড় রকমের চোট, ২১টি মাংসপেশির টান ও একবার সর্দিজনিত কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন ওয়েলস ফরোয়ার্ড। সবমিলিয়ে ৫৩২ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন শুধু চোটে পড়েই।

হ্যাজার্ড এরইমধ্যে দেড় মৌসুমে ৩৫০ দিন মাঠের বাইরে থেকেছেন। তবুও তার প্রতি ভক্তদের সমর্থন আছে। কিন্তু বেলকে রিয়াল সমর্থকরা মনে করতেন সমস্যার আরেক নাম! বেশিরভাগ সমর্থক চাইতেন টটেনহ্যাম তারকাকে যেন আর দেখা না যায় বার্নাব্যুতে।

হুয়ান লোজানো
১৯৮০ সালের শুরুর দিকে লোজানোকে আন্ডারলেখট থেকে তখনকার ক্লাব রেকর্ড ২০০ মিলিয়ন পেসোঁতে কিনে নেয় রিয়াল। এই দামের কোনো মূল্যই রাখতে পারেননি লোজানো। সব মিলিয়ে খেলতে পেরেছেন মাত্র ২৪ ম্যাচ।

চোটের কারণে ১৯৮৪ সালে ১৫ ম্যাচ বাইরে ছিলেন। মাঠের বাইরের জীবনও ছিল অনিয়ন্ত্রিত। নৈশকালীন জীবনে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরে বাধ্য হয়ে তাকে তার সাবেক ক্লাব আন্ডারলেখটেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় রিয়াল।

বিজ্ঞাপন