চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাবি ও মহানগর ছাত্রলীগের মারামারিতে তিন কর্মকর্তা আহত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন-উর -রশিদ, হবিবুর রহমান হলের সেকশন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও শরীরচর্চা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার কামারুজ্জামান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এদিন সকাল থেকেই প্যারিস রোড, প্রশাসন ভবন, শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, চাকরিপ্রত্যাশী ও সাবেক-বর্তমান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। সকাল থেকে সবার মুখে মুখে অ্যাডহকে নিয়োগের কথা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী শেখ রাসেল স্কুলের মাঠ থেকে প্যারিস রোডে শোডাউন দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে আসেন। এরপর তারা প্রশাসন ভবনের পাশে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে অবস্থান নেন।

এসময় সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাস্টাররোলের কর্মচারীর মুখোমুখি অবস্থায় চলে যায়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের বাসভবন থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন-উর-রশিদ এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার তরিকুল আলম বেরিয়ে আসেন।

এসময় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্যাারিস রোডেই মামুন-অর-রশীদকে ঘিরে ধরেন। তাকে মারধর শুরু করলে হবিবুর রহমান হলের সেকশন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এগিয়ে যান। মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাসুদকে মারধর করে তার জামা ছিড়ে ফেলেন ও তিনি রাস্তার পাশের ড্রেনে জমা পানিতে পড়ে যান। শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চলও তাদের মারধরের শিকার হন।

সেসময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরাও এগিয়ে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সেখানে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা লাঠিপেটা করে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষপর্যন্ত মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের সামনে দিয়ে দৌড়ে ও মোটরসাইকেলে নিয়ে পালিয়ে যান।

অন্যদিকে উত্তেজনা বিরাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে চলে যান।

তবে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির বিষয়ে প্রক্টর মো. লুৎফর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সার্বিক পরিস্থিতি জানতে রাজশাহী নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এস এম সিদ্দিকুর রহমানও ফোন ধরেননি।

বিজ্ঞাপন