চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজনীতি এমনই হোক

রাজনীতি নিয়ে নানা সময় নেতিবাচক কথা শোনা গেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথায় আশার আলো জ্বলে উঠেছে। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করে সৎ ও ত্যাগীদের রাজনীতিতে সুযোগ করে দিতে হবে।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি নেই। ত্যাগী ও সৎ নেতাকর্মীরা সুবিধাবাদীদের জন্য যেমন রাজনীতি করতে পারেন না, ঠিক একইভাবে অন্য পেশাজীবীদের দখলে রাজনীতি চলে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদেও ইতিপূর্বে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। অন্যদের হাতে যেন রাজনীতি চলে না যায়, এজন্য অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদও একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্যের ভাষণে তিনি বলেছিলেন: ‘গরিবের বউ নাকি সবারই ভাউজ। ভাইয়ের বউকে ভাবি বলে। রাজনীতি সাবজেক্ট হয়ে গেছে ভাউজের মতো। এখানে যে কেউ যে কোনো সময় ঢুকে পড়ে। আমি যদি বলি ফিজিক্সের টিচার হবো তাহলে হাসির পাত্র হওয়া ছাড়া কিছুই হবো না। কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ। গ্রামে গরিবের বউকে সবাই ভাবী বলে।’’

বিজ্ঞাপন

ওই সময় রাষ্ট্রপতি আরও বলেছিলেন: ‘ঠিক একইভাবে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার সবাই রাজনীতি করে। ভিসি স্যারও অবসরের পর রাজনীতি করবে। সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রিটারি, কেবিনেট সেক্রেটারি, অবসরের পর সবাই বলে রাজনীতি করি।’

রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্য আরও আগেই রাজনীতির করুণ দশা প্রমাণ করেছিল। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা যে শুরু হয়েছে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কথায় স্পষ্ট। সৎ ও ত্যাগীদের রাজনীতিতে সুযোগ করে দেওয়ার ধারা শুরু করে তা অব্যাহত রাখতে হবে। এতে দেশ এবং দল, উভয়ই উপকৃত হবে।

রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে রাখতে হলে সৎ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজ দল থেকে সেটা শুরু করবেন বলে আমরা আশা রাখি। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।