চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে হাত ককটেল বিতরণ করেছে সেই হাতেই এখন লিফলেট:প্রধানমন্ত্রী

‘যে হাত মাত্র কয়েকটা দিন আগেও ককটেল বিতরণ করেছে সেই হাতই এখন লিফলেট বিতরণ করছে’ রোববার কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ৯২ দিন তিনি
বাসায় না থেকে অফিসে থাকলেন, তিনি নাকি আওয়ামী লীগকে উৎখাত না করে বাসায়
ফিরবেন না। সেই তো ঠিকই ফিরলেন। আমরা তো এখনো সরকার পরিচালনা করছি।

ক্রমাগত হরতাল ও অবরোধে প্রায় ১৫০ জন পুড়ে মারা যাওয়া এবং ৫০০ জন আহত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আগেই তাকে বলেছিলাম আগুন নিয়ে খেলবেন না, তাহলে আপনারেই হাত পুড়ে
যাবে। যে বাস আপনি পুড়িয়ে দিয়েছেন সেই বাস মার্কায় আবার ভোট চান কি করে?

এদেশের মানুষ সহজে অতীত ভুলে যায় মন্তব্য করে  তিনি বলেন, যে মানুষ আপনার দোকান পুড়িয়ে
দিয়েছে সেই মানুষটিই দোকানে এলে আপনি কিভাবে পারেন হাসিমুখে কথা বলতে? যে
খুন করেন তাকেই কি জনগণ ভালোবাসে? জনগণের কি ঘৃনা নেই?

৭৫ এর পর এদেশে প্রতিরাতে কারফিউ হতো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা কি গণতন্ত্র ছিলো? সেটা ছিলো কারফিউ গণতন্ত্র। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পুরো কৃষকজাতি। বিএনপির আমলে অনেক সেনা অফিসার হত্যা করেছে। কৃষকদের উপর নির্বিচারে অত্যাচার চালিয়েছে। যে জামায়াতে ইসলাম গণহত্যা চালিয়েছে, গণধর্ষণ করেছে তাদের আবার ক্ষমতায় বসিয়েছে, যাদের এদেশে নাগরিকত্বই ছিলো না; তাদের আবার ফেরত আনা হয় ওই সময়ই।

Advertisement

৯৫ সালের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, সারের দাবিতে মানববন্ধন করেছিল কৃষক। বিনিময়ে তারা কেবল গুলি পায়। ১৮ জন কৃষক সেসময় মৃত্যুবরণ করেন। এরপর আমরা ‘কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন করি। প্রতিবছর আওয়ামী লীগ এখন সেই কর্মসূচী পালন করছে।

৯৬ সালে এদেশে ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিলো। ৫ বছরে সেটা পূরণ করে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। এখন আমাদের কোনো খাবার বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়না। বাইরের কোনো দেশের সাহায্য প্রয়োজন হলে আমরা সেটাও দিতে পারবো বলে আশা করি। বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষকদের নিয়ে কাজ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ৯৬ সালের আগে একবার বিশ্বব্যাংক এসেছিলো এদেশে। তারা বলেছিলো কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। আমরা বলেছি, আমাদের কৃষক গরীব। তাদের সহায়তা দিতেই হবে। আমরা তাদের কথা শুনিনি। আমরা গবেষণার জন্য থোক টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। গবেষণার কারণেই আমরা আজ উচ্চ ফলনশীল, লবণ সহিষ্ণু, ক্ষরা সহিষ্ণু ধান চাষ শুরু করতে পারলাম।

কৃষকদের সহায়তার কথাও বলেন তিনি। ৯৮ এর বন্যার সময় বিবিসি ও ইউএনডিপি বলেছিল এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা যাবে। আমরা সেটা হতে দেইনি। খাবার, চিকিৎসা পাঠিয়েছি নৌকা, ভ্যান বা হেলিকপ্টারে করে। যারা ঋণ নিয়েছিলো তাদের ঋণ বন্ধ করে নতুন করে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া। আমরা কৃষকদের জন্য খাদ্য আইন তৈরি করেছি। তাদের ব্যাংক ঋণ দিচ্ছি। এজন্য মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুললে সরকারের সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছাবে।

কৃষকলীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদেরও অনেক দায়িত্ব আছে। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো সেসময় আমি আমার দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখতে চাই। কৃষকলীগের কাজ হলো আওয়ামী লীগের কথা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাদের সঞ্চয় যদি ১০০ টাকা হয় তাহলে সরকার আরো ১০০ টাকা কৃষককে দেবে।