রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহের মধ্যেই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। এবার এ ঘটনায় নিজের শৈশবের এক ভয়াবহ স্মৃতি ও দীর্ঘদিনের ট্রমার কথা তুলে ধরলেন সংগীতশিল্পী লোপা হোসেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে লোপা জানান, শিশুদের ওপর ধর্ষণ ও নির্যাতনের খবর তাকে এখনো ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। কারণ, ছোটবেলায় তিনিও এক ভয়ংকর ঘটনার মুখোমুখি হতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।
পোস্টের শুরুতেই এই শিল্পী লেখেন, “আমার সারাটা জীবন কেটেছে ধর্ষিত হবার ভয়ে।”
লোপা হোসেন জানান, ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ক্লাস ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে তিনি ছোট চাচার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় বেড়াতে যান। সেদিন গভীর রাতে তাদের বাসায় অস্ত্রধারী ডাকাত দল হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যদের হাত বেঁধে ফেলার পর ডাকাতরা বারবার জানতে চেয়েছিল-“লোপা কই?”
শিল্পীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা পরে বুঝতে পারেন, হামলাকারীদের কয়েকজন এলাকায় পরিচিত ছিল এবং তারা লোপাকে বিভিন্ন স্টেজ পারফরম্যান্সে দেখেছিল। বাসার প্রতিটি জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজেও তাকে না পেয়ে ডাকাতরা লুটপাট চালিয়ে চলে যায়।
সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লোপা লেখেন, “বহুবার ভেবেছি, সেদিন যদি ছোট চাচা ফেরেশতার মতো এসে আমাকে নিয়ে না যেতেন, আমি যদি বাসায় থাকতাম, তাহলে কী হতো।”
তিনি জানান, তখন তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ৯ বছর। ওই ঘটনার পর থেকেই দুঃস্বপ্ন, আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমা তাকে তাড়া করে ফিরছে। এমনকি আজও শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা সামনে এলে তিনি ভয় ও আতঙ্কে কুঁকড়ে যান।
পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ডাকাত দলের একজন পরে ভয়ংকর অপরাধীতে পরিণত হয়েছিল এবং র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়। সেই ঘটনার স্মৃতিও তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
দীর্ঘ পোস্টের শেষদিকে নিজের ভেতরের ভয় ও মানসিক অবস্থার কথাও অকপটে তুলে ধরেন এই সংগীতশিল্পী। তিনি লেখেন, “সারাজীবন ‘সাহসী মেয়ে’র অভিনয় করে গেছি। অথচ আমার সারা জীবন কেটেছে পুরুষদের ভয় পেয়ে।”


