চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে স্মৃতি কখনো ভোলার নয়

ফ্ল্যাশব্যাকে টাইগার ক্রিকেট (পর্ব-৩)

১৩ এপ্রিল, ১৯৯৭। তেইশ বছর আগে এই দিনেই আইসিসি ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। টাইগার ক্রিকেটাররা আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল পুরো জাতিকে। সে অর্জনের ২৩ বছর পূর্তির দিন আজ। কুয়ালালামপুরে কেনিয়ার বিপক্ষে শিরোপা জয়ের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াই স্মৃতিতে এখনো অমলিন।

বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে জায়গা করে নিতে এক বলে চাই ১ রান। কিলাত কিলাত মাঠে সে কী উত্তেজনা! টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হয়নি ম্যাচ। তবে মাঠের অবস্থা টের পাওয়া যাচ্ছিল বেতারে বাংলাদেশের ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠ শুনেই। স্নায়ুক্ষয়ী সেই মুহূর্তে বোলার ছিলেন পেসার টনি সুজি। ব্যাটিং প্রান্তে হাসিবুল হোসেন শান্ত। অপর প্রান্তে খালেদ মাসুদ পাইলট।

বিজ্ঞাপন

লেগস্টাম্পের একটু বাইরের বল ব্যাটে করতে পারেননি হাসিবুল। তার প্যাডে লেগে বল চলে যায় শর্ট ফাইন লেগে। উইকেটরক্ষক কেনেডি ওটিয়ানো কিছুটা দৌঁড়ে বল ছোড়ার আগেই দুই ব্যাটসম্যানের প্রান্ত বদল। ব্যাট উঁচিয়ে হাসিবুলের ভোঁ দৌড়। রচিত হল নতুন রূপকথা।

ফ্ল্যাশব্যাক: পর্ব-১: মাশরাফীর তাণ্ডবে বাংলাদেশের প্রথম তিনশ, পর্ব-২: অবিশ্বাস্য বোলিং, হেরেও ম্যাচসেরা আফতাব,

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বড় মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি ধরা হয় সেই আইসিসি ট্রফি জয়কে। মনে করা হয় টাইগার ক্রিকেটে নতুন সূর্য উদিত হয়েছিল ১৩ এপ্রিল। সেই আলোয় আলোকিত হয়ে এসেছে আরও অনেক অনেক সাফল্য। বাংলাদেশ এখন ওয়ানডের সাত নম্বর দল। যত অর্জনেই নাম লেখাক পথ যারা দেখিয়েছিলেন, সেই আকরাম খানের দল ইতিহাস গড়ার বীরসেনানী হয়ে থাকবেন সবসময়।

টাইগারদের আইসিসি ট্রফি জয়ের পর ক্রিকেট খেলাটি ছড়াতে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে। প্রাণের খেলা ফুটবলকে ছাপিয়ে এটিই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। সব বিভেদ ভুলিয়ে পুরো দেশকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে ক্রিকেট।

আইসিসি ট্রফির ফাইনাল ম্যাচটি ছিল মূলত ১২ এপ্রিল। প্রথমে ব্যাট করে কেনিয়া ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৪১ রানের লড়াকু পুঁজি। স্টিভ টিকোলো একাই খেলেন ১৪৭ রানের ইনিংস। কেনিয়ান ইনিংস শেষ হতেই শুরু হয় বৃষ্টি। ওইদিন আর খেলাই হয়নি।

রিজার্ভ ডে থাকায় ১৩ এপ্রিলে গড়ায় ম্যাচ। আউটফিল্ড ভেজা থাকায় সকালটা কাটে অপেক্ষায়। মাঠের পানি শুকাতেই চলে যায় আধাবেলা। ফলে ছোট হয়ে আসে ম্যাচের দৈর্ঘ্য। ৫০ ওভারে ২৪২ রানের বদলে ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ১৬৬। দুই উইকেট হাতে রেখে শেষ বলে টাইগাররা পৌঁছায় লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রাণের উৎসব নববর্ষের আগেরদিন ক্রিকেটের নতুন শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।