চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘যদি সুযোগ না দেন শিখব কীভাবে’

চট্টগ্রাম থেকে: মেহেদী হাসান বিপিএলে বল হাতে দ্যুতি ছড়ান প্রায়ই। ৪ ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট দেখে তাই চমকাবেন না টুকটাক খোঁজখবর রাখা কেউও। তবে তার ব্যাটে ২৯ বলে ৫৯ রানের যে বিস্ফোরণ দেখা গেছে সোমবার, সেটি নিশ্চিতভাবেই আলোচনার খোরাক হবে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মেহেদীর সেঞ্চুরি আছে ৫টি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে একটি। অলরাউন্ডার হলেও বিপিএলে ব্যাটিং করেন নয়-দশ নম্বরে। ঢাকা প্লাটুনের এ ক্রিকেটার সোমবার নেমেছিলেন তিনে। সুযোগের ব্যবহার করেছেন দুর্বার ব্যাটিং আগ্রাসনে।

কিছুটা মন্থর উইকেটেই কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন মেহেদী। মেরেছেন ৭ ছক্কা, ২ চার। মেহেদীর ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি একরকম অব্যক্ত দাবি জানাচ্ছে, দেশের খেলোয়াড়দের সুযোগ বাড়ানোতে। ম্যাচ শেষে মুখেও দাবিটি জানিয়ে রাখলেন ২৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

বিজ্ঞাপন

‘আসলে দেশি খেলোয়াড়েরা এ টুর্নামেন্টে তেমন সুযোগ পায় না। সব ফ্র্যাঞ্চাইজিই বিদেশিদের উপর নির্ভরশীল থাকে যে, ওরা সবকিছুই করতে পারবে। দেশিদের যদি ওইভাবে সুযোগ না দেন, আমরা শিখব কীভাবে। আমাদের শেখার একটা অপশন থাকতে হবে এমন বড় আসরে। এই অপশনটা থাকে না ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। তারা সবসময় বিদেশিদের উপর বিশ্বাস করে বেশি।’

বিপিএলে দলগুলো ব্যাটিংঅর্ডার সাজায় বিদেশিদের কেন্দ্র করে। যে কারণে মেহেদীর মতো খেলোয়াড়দের জায়গা হয় শেষ সারিতে। সোমবার মেহেদী তিনে ব্যাট করেছেন প্রমোশন নিয়ে নয়, নতুন বলে কুমিল্লার মুজিব-উর-রহমানের অফস্পিন খুবই কার্যকরী হওয়ায় টপঅর্ডারে টানা স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি ঢাকা।

এজন্য তিন নম্বরে নামিয়ে দেয়া শেষের সারির ব্যাটসম্যানকে! যার উইকেট হারালেও ক্ষতির কিছু ছিল না, সেই মেহেদী হাসানের তাণ্ডবেই (২৯ বলে ৫৯) কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে জয় পেয়েছে মাশরাফী-তামিমদের দল।

প্রতিভা মেলে ধরা মেহেদী মনে করেন ব্যাটিং অর্ডারে নির্দিষ্ট একটা জাগায় পেলে খেলা যেত পরিকল্পনা মাফিক, ‘আমার একটা ডাউন পজিশন ফিক্সড থাকলে আমার জন্য ভালো হয়। কিন্তু দশ নম্বর, ৯ নম্বর হলে মানসিকভাবে একটু ডাউন থাকি। তবে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি যে, এখানে সফল হতে পারলে আমার জন্য ভালো।’

বিজ্ঞাপন