চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘মুজিবনগর সরকার গঠন’ 

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘মুজিবনগর সরকার গঠন’ জানিয়ে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেছেন এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্ববাসীর কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

সম্প্রতি মুজিবনগর সরকারের পঞ্চাশতম বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাসদ এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে অস্হায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব ছিল অতুলনীয়।  বঙ্গবন্ধুর প্রতি এ দু’নেতার বিশ্বস্হতায় কোন প্রকার ঘাটতি ছিলনা।

অনেকে একটা কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে উপস্থিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অনুপস্থিত বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী। এই শক্তি সৃষ্টির একজন প্রধান কারিগর ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, অন্যজন ছিলেন সিরাজুল আলম খান। বাংলার অবিসম্বাদিত নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর উত্থানের পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। এসব অস্বীকার করলে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ তৈরি হবে। সঠিক ইতিহাস জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ১৭ এপ্রিল-মুজিবনগর, মুজিবনগর সরকার এখন পর্যন্ত উপযুক্ত মর্যাদায় পালিত হয়নি। এটা দুঃখের বিষয়। দেশে এখন একদিকে করোনার বিপদ, অন্যদিকে রয়েছে রাজনৈতিক দূর্যোগ। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় গণতন্ত্রী ও প্রগতিশীলদের একতাবদ্ধ হতে হবে।  ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস সব সময় অসাম্প্রদায়িক ও গনতন্ত্রের শক্তিকে সংগ্রামে প্রেরণা যোগাবে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘মুজিব নগর সরকার কর্তৃক গৃহীত বাংলাদেশের “ঘোষনা পত্র”, টির গুরুত্ব অপরিসীম। এ ঘোষনা পত্রে সাম্য,মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচারকে মৌলিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুজিব নগর সরকারের রাজনৈতিক,প্রশাসনিক নীতিমালা অনুসরণ করে চললে জাতি হিসেব আমাদের মর্য়াদা আরো বাড়তো।’’

ঐক্য ন্যাপের আহ্বায়ক প্রবীণ রাজনীতিবিদ শ্রী পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ছিল বঙ্গবন্ধুর ছায়া। মুক্তিযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন আদায়ে সরকারের উপদেষ্টাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘মুজিব নগর সরকার যোগ্যতার সাথে জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার কারণেই আমরা মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা লাভ করেছি।’

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সমতা, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্ব শর্ত গনতন্ত্র উল্লেখ করে সেই রকম একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সকল গনতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’’

জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন, দেশে মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতাকে মোকাবেলা করার জন্য সকল অসাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

অন্য আলোচকরা মুজিব নগর সরকারকে যথাযথভাবে জাতি এবং প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সরকারের অনাগ্রহে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।