চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মামুনুর রশীদের তুলনা তিনি নিজেই’

‘মামুনুর রশীদ আমার অনুজ, কিন্তু ক্ষণজন্মা একজন পুরুষ। মঞ্চ নাটক, টেলিভিশন নাটক এবং নাট্য নির্দেশনা ও অভিনয়ে আমাদের এখানে তিনি একটি বিরাট কীর্তি স্থাপন করেছেন।’-বলছিলেন মঞ্চ সারথি আতাউর রহমান।

২৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ বছরে পা রাখলেন মামুনুর রশীদ। তাঁর জন্মদিন ঘিরে ছয় দিনের আয়োজন চলছে শিল্পকলায়। গেলো বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে বর্ণিল আয়োজনে মাদলের বাজনার সঙ্গে মামুনুর রশীদের জন্মদিনের আয়োজনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক হায়াত মামুদ।

বিজ্ঞাপন

আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত এ উৎসবে রয়েছে মামুনুর রশীদ রচিত পাঁচটি নাটকের মঞ্চায়ন এবং সংগীত, নৃত্য, সেমিনার, প্রদর্শনী, গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সংবর্ধনা ও থিয়েটার আড্ডা। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিল্পকলায় কেক কাটেন মামুনুর রশিদ। এসময় মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন।

মামুনুর রশীদকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজের অনুভূতি পাঠ করেন মঞ্চ ও টেলিভিশনের শক্তিমান অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম। সেখানে মামুনুর রশিদের মঞ্চ ও টিভি নাটকের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

মামুনুর রশীদের দীর্ঘায়ু কামনা করে মঞ্চ সারথি আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে ভালোবেসে, বাংলাদেশের মাটিকে ভালোবেসে সাধারণ মানুষের জন্য, সাধারণ জীবন যাপন নিয়ে মামুনুর রশীদ যে নাটকগুলো লিখেছেন তার তুলনা তিনি নিজেই। এরকম বোধহয় আর কেউ লিখেন নি। তিনি ঠিক ম্যাক্সিম গোর্কির ‘লোয়ার ডেপথস’-এর মতো সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে লিখেছেন। এটিই সবচেয়ে বড় গৌরবের। টেলিভিশন, মঞ্চ, চলচ্চিত্র-সব মাধ্যমকেই তিনি আলোকিত করেছেন। তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন মামুনুর রশীদ। কিন্তু ৭২ বছরে পা রাখলেও আজ তাঁর ১৮ বছর। ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখের দুর্লভ এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় প্রতি চার বছর পর পর আসে তার জন্ম‌দিন। সে হি‌সাবে তাকে ঘিরে চলছে ১৮ তম জন্মোৎসব।

১৯৬৭ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে টেলিভিশনের জন্য নাটক লিখতে শুরু করেন মামুনুর রশীদ, যার বিষয়বস্তু ছিল মূলত পারিবারিক। নাট্যশিল্পের প্রতি তার প্রকৃত ভালোবাসা শুরু হয় টাঙ্গাইলে তার নিজ গ্রামে যাত্রা ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় পরিচয়ের সূত্র ধরে। তার যাত্রার অভিনয় অভিজ্ঞতা নাট্য-ভাবনাকে খুবই প্রভাবিত করেছিলো। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং জড়িত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি তার প্রথম রচিত নাটক ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ কলকাতার রবীন্দ্র-সদনে মঞ্চায়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনতা অর্জন করায় নাটকটি আর তখন মঞ্চায়িত হয়নি।

১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে তিনি তৈরি করেন তার আরণ্যক নাট্যদল। দলটি নিয়ে এখনো সরব রয়েছেন তিনি। ২০১২ সালে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ নাট্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন।