চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মামলা থেকে কারাগারে

শোবিজ অঙ্গনে এখন ভাঙনের হাওয়া। একের পর এক ভেঙে যাচ্ছে তারকাদের সংসার। আর এবার সংসার ভাঙার খবরে শিরোনাম হলেন ‘রূপবান’ খ্যাত তারকা সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম। শুধু সংসার ভাঙার খবরে নয়, স্বামীর বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগও আছে তার।

চলতি বছরের ১২ মে বিয়ের পারভেজ সানজারি নামের বৈমানিক পেশায় কর্মরত এক ব্যক্তিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন মিলা। কিন্তু বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যে শোনা যায়, সংসার যাপন মোটেও ভালো যাচ্ছে না তাদের। গেল মাসে আচমকা তাদের ছাড়াছাড়ি হওয়ার খবর মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায়। সেসময় মিলা নিজেই বিষয়টি গুজব বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার একমাসের ব্যবধানেই পাল্টে গেল চিত্র!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এবার মিলা নিজেই জানালেন, স্বামী পারভেজ সানজারিকে ডিভোর্স দিতে যাচ্ছেন তিনি। আর ডিভোর্স দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন স্বামীর চরিত্র নিয়ে। শুধু তাই নয়, স্বামীকে চরিত্রহীন, নির্যাতনকারী এবং যৌতুকের অভিযোগে থানায় মামলাও করেছেন তিনি। তার মামলার ভিত্তিতেই গত বৃহস্পতিবার স্বামী সানজারিকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

মিলার স্বামীকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি জানিয়ে উত্তরা (পশ্চিম) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে মিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই পারভেজ সানজারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত আসামিকে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠালেও রোববার আবার আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদন করব।

মিলার করা মামলার নথি থেকে জানা যায়, বিয়ের পর পর্যায়ক্রমে কয়েকবার মিলাকে মারধর করেছেন স্বামী পারভেজ। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর তাকে মারধর করা হয়। মিলার বাবা চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা হয়। এর আগে মিলার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছেন। আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তাকে মারধর করেছেন। মামলায় মিলার বাবা সাক্ষী হয়েছেন।

আদালত সূত্র চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার আসামি পারভেজকে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করে। শুনানি শেষে বিচারক জামিন ও রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে মিলার সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে শুক্রবার রাতে নিজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ডিভোর্স ও স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি স্বীকার করেন। স্ট্যাটাসে তিনি স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে জানান, বিয়ের ১৩ দিনের মধ্যে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীর একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক আছে। এত বছরের সম্পর্কের পর যে এমন কাজ করতে পারে তার সাথে থাকা সম্ভব নয় বলে জানান মিলা। অসৎ এমন একজন মানুষ যে নববধুকে এভাবে ঠকাতে পারে তার কারও সঙ্গে থাকার অধিকারই নেই।