চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মাইলসের বাইরে একক ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা মাথায় আনিনি’

দেশ ও দেশের বাইরে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’-এর ভোকালিস্ট এবং গিটারিস্ট হামিন আহমেদ। এছাড়া ব্যান্ডদল নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘বামবা’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বাংলাদেশ লিরিসিস্ট কম্পোজার পারফর্মার সোসাইটি (বিএলসিপিএস) এবং বংলাদেশ  সংগীত প্রণেতাদের সরকার কর্তৃক একমাত্র লাইসেন্স প্রাপ্ত কালেকটিভ ম্যানেজমেন্ট ওরগানাজেশন (CMO) এর সদস্যও তিনি।

একসময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার হয়ে ক্রিকেটও খেলেছেন মাঠে। ব্যান্ডের গানের বর্তমান অবস্থা ও নিজের আগামী দিনের পরিকল্পনার নানা বিষয় নিয়ে মাইলস কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে:

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাবা-মা যে ধারার গান করেছেন। ছোটবেলায় সে ধরনের গানের চর্চা করলেও পরে একেবারে ভিন্ন ধারার গান নিয়ে সামনে এলেন। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?
আমার বাবা-মা বিশাল মনের মানুষ ছিলেন। আমাদের দুই ভাইয়ের ভিন্ন ধারার এ গান নিয়ে কখনও কিছু বলেনি।  শুধু বলতেন, তোমরা যাই করো নজরুল সংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীতটাও শিখে রাখো। আমরা নিজের ইচ্ছেতেই সেগুলো বাবা-মার কাছ থেকে সংগীতে কিছুটা শেখার চেষ্টা করেছি।

গিটার বাজানো শিখলেন কার কাছে?
কারও কাছে গিটার শিখিনি আমি। শুনে আর বই পড়ে শিখেছি। তখন তো আর এখনকার মতো তো শেখার সুযোগটা এতো সহজ ছিলনা। ইন্টারনেটে শেখার এতোটা প্লাটফর্ম ছিল না। তবে কানেশুনে শুনে শেখাতে বিষয়টি ভেতরে আয়ত্ব করার বেশি চেষ্টা করছি। এর ফলে গানের নোট ও পিস সম্পর্কে দারুণ একটা আইডিয়া হয়েছে। কানে শুনে প্রতিটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ বেশি দিয়েছি শেখাটাও ভালো হয়েছে। তবে আমারে গিটার শেখার পিছনে নয়ন মুন্সীর অনেক বেশি অবদান রয়েছে। তিনিই আমাকে সরসরি গিটার বাজানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

মাইলসের সঙ্গে যাত্রাটা কীভাবে শুরু হলো?
১৯৭৭ সালে প্রথম ব্যারাক নামে ব্যান্ড দল গঠন করি। এতে আমি শাফিন, কমল ও কামাল ছিলাম। এরপর ১৯৭৯ তে সেই সময়কার জনপ্রিয় শিল্পী ফরিদ রশিদ ভাই আমাকে মাইলসের হয়ে বাজাতে বলেন। আমার বয়স ষোল। আমি যাওয়ার পরই ছয় মাস পর শাফিন আসে মাইলসে। তার তিন বছর পর মানামকে  স্টুডিওতে ভালো বাজাতে দেখার পর ফরিদ রশিদ ভাই তাকেও মাইলসে নিয়ে নেয়। এইভাবে শুরু হয় মাইলসের নতুন যাত্রা।

বিজ্ঞাপন

মাইলসে আপনার সুর করা লেখা বা গাওয়া গান কয়টি রয়েছে?
মাইলসের সবকাজই আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ। সংখ্যা হিসেবে করলে আমার সুর করা মাইলসে গান রয়েছে পনেরোটা। এর অধিকাংশই আমার লেখা। তবে মাইলসের বাইরে কিছু গান করেছি সেটা বন্ধুদের অনুরোধে।

মাইলসের বাইরে আপনার একক কোন অ্যালবাম নেই কেন?
মাইলসের বাইরে আমি কখনই আমার একক ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা মাথায় আনিনি। মাইলসকে নিয়েই সর্বদা ভেবেছি। তবে বন্ধুদের অনুরোধে কয়েকটি গান বাইরে করে দিয়েছি। সেগুলো বাইরে ক্যারিয়ার গড়তে নয়, অনুরোধে। আমি মনে করি ব্যান্ডের বাইরে কেউ যদি একক ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করে বা চেষ্টা করে তাহলে সেটি দলের সাথে সাংঘর্সিক হয়। আমাদের দেখাগুলো এমনই হয়েছে।

আপনি তো জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেটও খেলেছেন। কনটিনিউ করলেন না কেন?
বাবা ইডেন গার্ডেনের আজীবন সদস্য ছিলেন। বাসায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে আলোচনা বেশি হতো। তখন রেডিও টিভিতে ক্রিকেট খেলার কমেন্ট্রি শুনতাম। ওই সেন্স থেকে ক্রিকেট খেলাটাও ন্যাচারালিই এসেছে আমার মধ্যে। আমাদের তিন ভাই খেলা পছন্দ করতাম। খেলা নিয়মিত করার জন্য বড় ভাই আমাকে তখন জামান ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যায়। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছি। তখনকার ক্রিকেট কিন্তু এখনকার মতো এতোটা জনপ্রিয় ছিল না। এখনকার মতো এতোটা আয়েরও ছিল না। তাই একসময় যখন ক্যারিযার নিয়ে ভাবি তখন খেলা আর ব্যবসাকেই মনোযোগ দেই।

মাইলসের একজন সদস্যের বাইরে আপনার আর কী পরিচয় রয়েছে?
মাইলসের বাইরে আমি একজন বাবা। আমর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা। আমার তিন সন্তান রয়েছে। ব্যবসাতেও সময় দিতে হয়।

আপনার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। তিনি গান থেকে দূরে কেন?
আমিও কানিজের গানের একজন ভক্ত। পরিবারকে সময় দিতে গিয়েই মাঝখানে গানে সময় দেয়া হয়নি তার। তবে আমি মনে প্রাণে চাই সে আবার গানে ফিরুক। আশা করি সে ফিরবে। শিগগিরই  শ্রোতাদের জন্য নতুন গান নিয়ে আসবে।

নতুন কোন ব্যান্ডশিল্পী আসছে না। মাঝে রিয়েলিটির শো’য়ের মাধ্যমে কিছু শিল্পী আনার চেষ্টা করা হয়েছে তারাও এগোতে পারেনি। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
সংগীত শিল্পী হলে আগে সংগীতের বেসিক জ্ঞান নিয়ে আসতে হবে। সুর তাল লয়ের জ্ঞান জানতে হবে। শুধু কণ্ঠের কারণে শিল্পী হয়ে এলে তো বেশি দূর যাওয়া যাবে না।  দ্রুত সাকসেস দেখতে চাইলে সেটা সম্ভব না। শেখা থাকলে সাফল্য আসবেই।