চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মঙ্গলের প্রার্থনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা

‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হয় বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। আবহমান বাংলার
ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধারণকারী বিভিন্ন নিদর্শন ও প্রতিকৃতি হাতে নিয়ে
হাজার হাজার মানুষ সমসুরে শপথ নেয় দেশকে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের নৃশংসতা থেকে মুক্ত করার।

চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ  বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নানা পেশা-ধর্মের হাজারো মানুষ।

দেশকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে মুক্তচিন্তা আর মুক্তমনের দুয়ার খুলে দিতে এবারের শ্লোগান নির্বাচর করা হয়েছে। কোনো রাজিব, অভিজিৎ বা ওয়াশিকুরের রক্তে নয়; বৈশাখের লগ্নে রঙ তুলির আঁচর দিয়ে বাংলাদেশকে রাঙিয়ে তুলতে হবে নতুন বছরে এমন প্রতিজ্ঞাই সবার মনে।

পুরোনো বছরের সকল গ্লানি আর না-পাওয়া আকাঙ্খা পূরণ হবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে সর্বস্তরের জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শিশুদের গায়ে রঙিন পোশাক, ছেলেরা পড়েছে লাল সাদা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা লালপার সাদা শাড়ি।

Advertisement

বৈশাখের শুরুতেই প্রখর রোদের মধ্যেও তাদের আগ্রহ উদ্দিপনা ছিলো শতভাগ। মেয়েরা বাহাড়ি দেশীয় গহনা আর ফুল দিয়ে সাঁজিয়ে নিয়েছে নিজেদের।

ঢাক-ঢোল
আর বাঁশির তালে শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু করে শাহবাগ-রুপসী বাংলা হোটেলের
মোড় হয়ে টিএসসি ঘুরে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় কারো হাতে ছিলো রঙিন পাখা
বা মুখোশ কারো হাতে ‘শুভ নববর্ষ’ লেখা প্ল্যাকার্ড। সেই সঙ্গে ছিল নানা
রঙ্গের মুখোশ, রং-বেরং-এর চরকি। এছাড়াও ছিলো বাঘ, হরিণ, দোয়েল, হাঁস, বিড়াল, আলপনা অাঁকা  হাঁড়ি, বড় আকৃতির প্যাঁচা ও নানা জাতের তুহিন পাখির প্রতিকৃতি।