বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার স্বত্ব বিক্রির একটি ব্যর্থ চেষ্টার পর কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। তার ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন ধাক্কা এসেছে। ফুটবলকে ‘বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করলেও তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ তালিকায় যোগ হয়েছেন নর্ডিক ছয়টি দেশ।
নর্ডিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনাস্থায় ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, ফারো দ্বীপপুঞ্জ, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন ছয়টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে। তারা ফিফার উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনা প্রক্রিয়া নিয়ে দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নর্ডিক অঞ্চলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নর্ডিক অঞ্চলের ছয়টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা সভাপতির ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং সংস্থাটির পরিচালনা পদ্ধতি ও উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। নর্ডিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো উয়েফা এবং এর অন্তর্ভুক্ত জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রস্তাবিত পদক্ষেপের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করছে।’
‘আমরা ফিফার কাছ থেকে এমন সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করি যে, তারা ভবিষ্যতে কখনোই তাদের পরিচালনা ব্যবস্থা বা কোনো প্রতিযোগিতার মালিকানা কোনো বেসরকারি পক্ষের হাতে তুলে দেবে না। পাশাপাশি, ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রস্তাবনা ঘিরে যেসব ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনার যে দাবি এএফসি, কনকাকাফ ও উয়েফা জানিয়েছে, আমরা তার প্রতিও সমর্থন জানাচ্ছি।’
‘ফিফা ফরওয়ার্ড’-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ‘ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়ন’ (সিএফইউ) এর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা ফিফাকে আমূল বদলে ফেলেছি এবং বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছি। আজ সিএফইউ সদস্যদের আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি—আমাদের লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ফুটবলের প্রসার ঘটানো।’
‘বিশাল সব দেশ এবং অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যকার এই ব্যবধান আমাদের কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের অন্য দেশগুলোকেও সুযোগ করে দিতে হবে। পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংলাপ বজায় রাখা এবং নিজেদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক কিছুই ঘটেছে; তাই অন্যের কথা শোনা এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’









