চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের উজ্জ্বল এক দিন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাওয়া ছিল বাংলাদেশকে তিনশর মধ্যে আটকে রাখা। মেহেদী হাসান মিরাজের বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি স্বাগতিকদের নিয়ে গেছে চারশ রানের চূড়ায়। টাইগারদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৪৩০ রানে। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ক্যারিবীয়রা ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৭৫ রান।

২৪ রানের মধ্যে উইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠান মোস্তাফিজুর রহমান। দিন শেষে বাংলাদেশের আক্ষেপ একটিই, স্পিন চতুষ্টয় ২১ ওভার হাত ঘুরিয়েও পাননি উইকেটের দেখা। সফরকারী দলের আর একটি-দুটি উইকেট নেয়া গেলে দিন অসাধারণ বলা যেত।

সেটি হতে দেননি উইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ডানহাতি ওপেনার ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। এনক্রুমা বোনার অপরাজিত ১৭ রানে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে দুজনে যোগ করেছেন ৫১ রান।

বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৩৫৫ রানে পিছিয়ে আছে উইন্ডিজ। হাতে রয়েছে ৮ উইকেট।

জহুর আহমেদে ৫ উইকেটে ২৪২ রান তুলে প্রথমদিন শেষ করা বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে খেলেছে দুই সেশন। অলআউট হওয়ার আগে যোগ করেছে আরও ১৮৮ রান।

বিজ্ঞাপন

লড়াকু পুঁজি এনে দেয়ার পেছনে বড় অবদান মিরাজের। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে আউট হয়েছেন ১০৩ রানে।

সাকিব আল হাসান ও সাদমান ইসলামও জাগিয়েছিলেন সেঞ্চুরির আশা। ফিফটি পেরিয়ে তারা বিলিয়ে আসেন উইকেট। ভুল করেননি মিরাজ। আট নম্বরে নেমে ব্যাটসম্যান সত্ত্বার পরিচয় মেলে ধরেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ২২ গজে।

সাকিব ৩৯ ও লিটন ৩৪ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন। সকালেই প্রথম সাফল্য পায় উইন্ডজ। জোমেল ওয়ারিকেনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস (৩৮)।

ফিফটি পেরিয়ে সাকিব ফেরেন ৬৮ রান করে। বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগানো এ বাঁহাতি উইকেট বিলিয়ে আসেন লাঞ্চ বিরতির কিছু আগে। অফস্পিনার রাকিম কর্নওয়ালের বলে কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়াট পয়েন্টে ব্রেথওয়েটের হাতে সহজ ক্যাচ দেন।

শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে মিরাজের কাঁধেই পড়ে ইনিংস বড় করার দায়িত্ব। বোলারদের নিয়ে পাড়ি দেন পথ। বাংলাদেশের ইনিংস দীর্ঘ হয় ১৫০.২ ওভার।

৯৯ বলে ফিফটি ছোঁয়া মিরাজ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৬০ বলে। মারেন ১৩টি চার। সাগরিকার ২২ গজে তার ১৬৮ বলের লড়াই থামাতেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

মিরাজের ইনিংস বড় হওয়ার পেছনে অবদান আছে টেলএন্ডারদের। তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান দেন সমর্থন। তাদের সঙ্গে ছোট ছোট জুটিতে বাংলাদেশ পাড়ি দেয় চারশর পথ।

ক্যারিবিয়ান স্পিনার জোয়েল ওয়ারিকেন নেন ৪ উইকেট। দুটি উইকেট নিয়েছেন রাকিম কর্নওয়াল। একটি করে উইকেট কেমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, এনক্রুমা বোনারের।

বিজ্ঞাপন