চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেজোসের ফোন হ্যাকের জন্য অ্যাপলকে দুষলো ফেসবুক

ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের মোবাইল ফোন হ্যাকের ঘটনায় টেক জায়ান্ট অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস’কে দায়ী করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

বেজোসের ব্যবহার করা আইফোনটি ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে হ্যাক হয়। বিষয়টি প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্ত করে তদন্তকারীরা জানান, ফেসবুক মালিকানাধীন মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বেজোসের ফোনে ৪.৪ মেগাবাইটের একটি ভিডিও ফাইল পাঠানো হয়েছিল। ওই ফাইলটির সঙ্গে ছিল এক ধরনের ম্যালওয়্যার, যেটি ফোনে ছড়িয়ে পড়েছিল।

বিজ্ঞাপন

একই পদ্ধতিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে গত বছর ইসরায়েল ভিত্তিক এনএসও গ্রুপ পেগাসাস সফটওয়্যার দিয়ে প্রায় ১৪শ’ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর মোবাইল ফোন হ্যাক করেছিল।

কিন্তু ফেসবুকের দাবি, সমস্যাটা হোয়াটসঅ্যাপের নয়, এজন্য দায়ী অ্যাপলের আইওএস। কেননা হোয়াটসঅ্যাপের ‘এন্ড-টু-এন্ড’ অর্থাৎ দু’টো ডিভাইসের মধ্যকার তথ্য বিনিময়ের সুরক্ষার জন্য তৈরি এনক্রিপশন ব্যবস্থা হ্যাক করা অসম্ভব।

বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ফেসবুকের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ বলেন, জেফ বেজোসের ফোন হ্যাক হওয়ার ঘটনায় হোয়াটসঅ্যাপের কোনো দোষ নেই। দোষ ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের।

বিজ্ঞাপন

ক্লেগ বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের শক্তিশালী এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে মেসেজ একবার এক ডিভাইস থেকে পাঠানোর পর গ্রহীতা ডিভাইসে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত পথের মাঝে সেটিতে কোনো ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার যোগ করার সুযোগ নেই।

তার মতে, ম্যালওয়্যারটি মেসেজ পাঠানোর সময়ই এর সঙ্গে এমনভাবে পাঠানো হয়েছিল যেন হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে পাঠানো থেকে শুরু করে পৌঁছানো পর্যন্ত সেটি নিষ্ক্রিয় থাকে এবং মেসেজটি ওপেন করার পর আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের সংস্পর্শে এসে সেটি সক্রিয় হয়ে ডিভাইসকে আক্রমণ করতে পারে।

অর্থাৎ, ফোনের অপারেটিং সিস্টেমেই কোনো ফাঁক রয়েছে, যাকে কাজে লাগিয়ে বেজোসের ফোন হ্যাক করা হয়েছে।

হ্যাকিংয়ের ঘটনার তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান এফটিআই কনসালটিংয়ের দেয়া প্রতিবেদন অনুসারে, ভিডিও ফাইলটি ফোনে গ্রহণ করার পর থেকেই ফোনটি অস্বাভাবিক রকম বেশি পরিমাণে তথ্য বাইরে পাঠাতে থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল বেজোসের সঙ্গে তার প্রেমিকা লরেন স্যানচেজের আদানপ্রদান করা গোপন মেসেজও।

এই হ্যাকের ঘটনায় ইতোমধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও জড়িয়ে গেছেন। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক কর্মকর্তা বলেছেন: মোহাম্মদ ব্যবহার করতেন, এমন একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকেই বেজোসের কাছে ভিডিওটি পাঠানো হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এর পক্ষে বেশ কিছু ফরেনসিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।