চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বর্ণনায় নারায়ণগঞ্জের লঞ্চডুবি

ডুবে যাওয়া লঞ্চের বেশিরভাগ যাত্রী মুন্সীগঞ্জের

নারায়ণগঞ্জের নতুন সৈয়দপুর পাথরঘাটা সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া এম এল সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চটির বেশির ভাগ যাত্রী ছিলেন মুন্সীগঞ্জের।

রোববার সন্ধা সোয়া ৬ টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে এম,এল সাবিদ আল হাসান নামের লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাটে ফেরার পথে একটি কার্গো জাহাজ লঞ্চটির মাঝ দিয়ে চালিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে যাত্রীবাহী লঞ্চটি ডুবে যায়। অনেক যাত্রী নদী সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলে অধিকাংশ যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে বেঁচে যাওয়া লঞ্চের প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান। রাত ১১টা পর্যন্ত ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী দোলা আক্তার (৩৪) নামে একজনের মৃতদেহটি উদ্ধার মুন্সীগঞ্জের দক্ষিণ কোর্টগাও গ্রামের। রাজধানী ঢাকায় তার শ্বশুর বাড়ি। শ্বশুর বাড়ি থেকে মুন্সীগঞ্জে ফিরছিলেন তিনি এ লঞ্চে করে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটির বেঁচে যাওয়া যাত্রী মিঠুন কবিরাজ। তার বাড়ি শহরের যোগিনীঘাট এলাকায়। শহরের সুপার মার্কেট অঙ্গণ স্বর্ণালয় দোকানের কর্মচারি তিনি। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের সময় লঞ্চটিকে একটি কার্গোজাহাজ লঞ্চটির মাঝ দিয়ে চালিয়ে দেয়। আমি লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে ছিলাম। আমার সঙ্গে আমার ৩ আত্মীয় ছিল। আমি সহ চর সৈয়দপুরের ৩ জনই লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার সময় নদীতে ঝাপিয়ে পড়ি এবং সাঁতার কেটে পাড়ে উঠে বেচেঁ যায়।

তিনি বলেন, নীচতলায় প্রায় ৬০/৬৫ জন যাত্রী ছিলেন।

সাতাঁর কেটে বেঁচে যাওয়া স্বপন মাদব্বর ( ৫৫)। তার বাড়ি চর মশুরা এলাকায়। তিনি জানান, আমি লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার আগে আমি মাগরিবের নামাজ আদায়ের‘ প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এসময় একটি কার্গো জাহাজ আমাদের লঞ্চটিকে চাপা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। ওই মুহূর্তে আমি নদীতে ঝাপিয়ে পড়ি।

গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জের শাহী বাজার এলাকায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছিলেন মহারানী (৪০)। ছেলে দীপুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ লঞ্চে মুন্সীগঞ্জে ফিরছিলেন। দীপু বেঁচে গেলে ও তার মা মহারানী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান দীপু। দীপু জানান, তাদের বাড়ি আধারা ইউনিয়ের ফুলতলা এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে তানবীর হোসেন হৃদয়। সে মুন্সীগঞ্জ প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড.ইয়াজদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র। তানবীর হোসেন হৃদয় এ লঞ্চের যাত্রী ছিল।

তার বড় ভাই পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা মো:কামরুল ইসলাম জানান,আমার ছোট ভাই ডুবে যাওয়া এই লঞ্চের যাত্রী ছিলেন। ওর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আত্মীয়ের খোঁজে আসেন রুপালি আক্তার। তিনি জানান, আমার চাচা সালমান বেপারি ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম ও এক হান্নান মুন্সী ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী ছিলেন। তারা শহরের উত্তর ইসলামপুর গ্রামে থাকেন।

রুপালি আক্তার জানান,তারা সবাই নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। রুপালি আক্তার জানান, যখন লঞ্চ ডুবতে থাকে তখন আমার চাচা সালমান বেপারি আমার কাছে মোবাইলে ফোন দেন। বলেন আমাদের লঞ্চটি ডুবে যাচ্ছে। তারপর থেকে ফোন করে তাকে আর খোঁজ পাচ্ছি না।

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে বেঁচে যাওয়া রিফাত বেপারি (২৬) আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে আধারা ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়াকান্দির গ্রামের নুর হোসেন বেপারি ছেলে।

ঢাকা বিমানবন্দরে খালাতো ভাইকে পৌঁছে দিয়ে মুন্সীগঞ্জে ফেরার পথে এ লঞ্চ দুর্ঘটনার শিকার থেকে অল্পের জন্যে বেঁচে যান।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো: ইব্রাহিম জানান, নারায়ণগঞ্জে লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনার পরপরই আমরা মুন্সীগঞ্জ জেনালের হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছি। লঞ্চের আহত যাত্রী যারা এখানে আসছে তাদের তালিকা তৈরি করছি।

তিনি জানান, এছাড়া আত্মীয় স্বজনেরা তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে হাসপাতালে আসছে তাদের নাম ঠিকানাও তালিকা করা হচ্ছে।