চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিশেষ ব্যবস্থায় রোববার থেকে খুলছে আড়ংয়ের কিছু আউটলেট

গ্রামীণ কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবিকা বাঁচাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থাসহ রোববার থেকে খুলছে আড়ংয়ের নির্ধারিত কিছু আউটলেট।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে দীর্ঘ দেড় মাস বন্ধ থাকার পর দোকান-বাজার খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আড়ংয়ের নির্ধারিত কিছু আউটলেট।

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ছাড়াও আড়ংয়ের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব আউটলেট খোলা থাকবে।

ক্রেতার স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদে কেনাকাটার স্বার্থে দেশে প্রথমবারের মতো বিপণীকেন্দ্রে আসার আগে অনলাইনে টাইমস্লট বুকিং চালু করল আড়ং।

aarong.com ওয়েবসাইটে গিয়ে নিকটতম আউটলেটে কেনাকাটা করার জন্য তারিখ ও সময় বুকিং দিতে পারবেন যে কোনো ক্রেতা। এরপর নির্ধারিত সময়ে এসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে সহজেই কেনাকাটা সেরে নিতে পারবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তামারা হাসান আবেদ বলেন, ‘আড়ংয়ের লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর কর্মসংস্থান। আমাদের সাথে জড়িত ৬৫ হাজারের বেশি হস্ত ও কারুশিল্পী এবং নারী উদ্যোক্তাদের জীবিকা। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আড়ং আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

’আড়ং বাংলাদেশের মানুষের একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আড়ং কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। আড়ংয়ের মুনাফা ব্র্যাকের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। আমাদের যে মুনাফা হয় তার অর্ধেক আমরা আড়ংয়ের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে ব্যয় করি। আর বাকি অর্ধেক ব্র্যাকের উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়। দেশে দারিদ্র্য বিমোচনসহ ব্র্যাক যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে তার একটি অংশ আসে আড়ংয়ের লভ্যাংশ থেকে

সারাদেশে আড়ংয়ের মোট ২১টি আউটলেটের মধ্যে ঢাকার বাসাবো এবং নারায়ণগঞ্জ বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘হটস্পট’ বিবেচিত হওয়ায় এখানে অবস্থিত আউটলেট দুটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার শপিং মল এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপিং মল বা অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকার অংশ হিসেবে আড়ং আউটলেটও বন্ধ থাকবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, কুমিল্লা এবং সিলেট অউটলেটসমুহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে আড়ংয়ের নিজস্ব ফেসবুক পেজে আয়োজিত এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেন। সেখানে জানানো হয়, চলমান পরিস্থিতিতে আড়ং তার সম্মানিত ক্রেতা ও কর্মীদের জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। কর্মী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের গ্লাভস ও মাস্ক দেওয়া হয়েছে যা পড়ে তারা কাজ করবেন। বাসা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য কর্মীদেরকে আড়ংয়ের নিজস্ব গাড়ি প্রদান করা হবে যেন তাদের পাবলিক পরিবহন ব্যাবহার করতে না হয়। এছাড়া নিয়মিত বিরতিতে প্রতিদিন প্রতিটি আউটলেট প্রাঙ্গণ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করা হবে যা ক্রেতা ও কর্মীবাহিনী উভয়ের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাসাধারণ ও কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আড়ং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে এর চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “আড়ংয়ের প্রত্যেকটি আউটলেটে সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য সবগুলো সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ অনুসরণ করা হবে। ক্রেতারা যাতে নিরাপদে ও ঝামেলামুক্তভাবে কেনাকাটা করতে পারেন সেজন্য সারা দেশে সবগুলো বিক্রয়কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ভিত্তিক কেনাকাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা এই কঠিন সময় পেরিয়ে আসতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে আড়ংয়ের কোনো পণ্য ট্রায়াল করার সুযোগ থাকছে না এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়কৃত পণ্য পরিবর্তন করা যাবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে বিদ্যমান ‘পণ্য পরিবর্তন নীতি’ অনুযায়ী ৩০ দিন গণনা শুরু হবে এবং এর মধ্যে পণ্য পরিবর্তন করা যাবে। এছাড়াও আমাদের ব্যাগেজ কাউন্টার বন্ধ থাকবে এবং ক্রেতাদের তাদের ব্যাগ নিয়ে আউটলেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

অনলাইন বুকিং বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিটি আউটলেটের কর্মীর সংখ্যা ও আয়তন অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ক্রেতার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রবেশের জন্য ক্রেতারা অনলাইনে টাইমস্লট বুকিং দিতে পারবেন, যা সীমিত থাকবে। একটি টাইমস্লটে ১ ঘণ্টার জন্য কেনাকাটা করতে পারবেন তাঁরা। অনলাইনে করা বুকিংটি সফল হলে ক্রেতা একটি এসএমএস পাবেন। আউটলেটে প্রবেশের আগে এই এসএমএসটি নিরাপত্তাকর্মীকে দেখাতে হবে।

বুকিংয়ের পর ক্রেতা শপিংয়ে আসার জন্য যে সময় নির্ধারণ করবেন, তার অন্তত ১০ মিনিট আগে আউটলেটের সামনে উপস্থিত হবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করে ফিরে যাবেন।

সকল ক্রেতাকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে থাকতে হবে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। আউটলেটে প্রবেশের আগে তাদের জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে এবং থার্মাল স্ক্যানারে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে। কারো মুখে মাস্ক না থাকলে কিংবা শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি থাকলে তিনি প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

বুকিং ছাড়া কোনো ক্রেতা এলে আউটলেটে স্থান ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে অথবা অন্য কারো বুকিং বাতিল হলে তিনি কেনাকাটার সুযোগ পেতে পারেন।

নিরাপদ কেনাকাটার স্বার্থে আড়ংয়ের আউটলেটগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত (স্যানিটাইজ) করা হবে। ভেতরে ক্রেতা ও আড়ংয়ের কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। এছাড়া, মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে আড়ং ‘ডিজিটাল পেমেন্ট’ কে উৎসাহিত করবে যা নগদ টাকা স্পর্শের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।