চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিমানের ককপিটে মানুষ নয়, বসবে রোবট

মানুষ যখন তার নিজের মনকেই নিয়ন্ত্রণ
করতে পারে না তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই কি পারে উদ্ধারকারি হিসেবে অবতীর্ন হতে? এটা
নিয়েই এখন চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন গবেষকরা।  

মানুষ তার মনকে নিয়ন্ত্রণ করে
নাকি মনই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে? সর্বশেষ জার্মানউইংয়ের ঘটনাটা ভয় তৈরি করেছে সবার
মনে। মানুষ যদি বুদ্ধিমত্তাকে আড়াল করে এভাবে মন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে হুমকির
সম্মুখীন হতে পারে পুরো মানবজাতিই। যেমনটা ঘটেছে বিধ্বস্ত বিমানে বসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে।
মনের এই দোলাচল থেকে মুক্তি পাবেন কি করে? কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে ককপিট বা চালকের
আসনে বসে থাকা মানুষটি আপনার ক্ষতি করে বসবে না?

এমন চিন্তা প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছিলো
গবেষকদেরও। তাদের এই চিন্তাই এবার ঘটনা দেবে অন্য এক মোড়। কারণ বিমান চালনার সাথে যুক্ত
সবার এখন একটাই প্রশ্ন- বিমান চালাতে আসলে কতজন পাইলটের প্রয়োজন পড়ে। একজন? নাকি একজনও
নয়?

আধুনিক সেন্সর টেকনোলজি, উন্নত
মানের কম্পিউটার আর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা মিলিয়ে কি পারেনা একজন পাইলটের জায়গা দখল করে
নিতে? পারে তো বটেই! এরই মধ্যে কিছু সরকারী এজেন্সি একজন সহ-পাইলটের পরিবর্তে আবার
কখনো কখনো দুজন পাইলটকে বাদ দিয়েই রোবট আর রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে বিমান চালানো পরীক্ষা
করে দেখছেন।

নাসার অ্যামেস রিসার্চ সেন্টারের
সেফ অটোনোমাস সিস্টেম অপারেশনের ম্যানেজার পরিমল কোপারডেকার বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এটা
নিয়ে ভাবছে এবং তাদের আরএ্যান্ডডি(রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)টাকা এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ
করতে চাইছে।’ সফলতা হয়তো আসবেও।

Advertisement

তবে অতীত বলে, ২০১৪ সালে ৮.৫
মিলিয়ন ফ্লাইটে করে ৮৩৮.৪ মিলিয়ন বিমানযাত্রী বহন করা হয়। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। যাত্রীবহনকারি
এসব বিমান থেকে আধুনিক কিছু এয়ারবাস পরিচালনা করা হয় কম্পিউটার পাইলট দিয়ে। মোশন সেন্সর
ব্যবহার করে বিমান তার অবস্থান ঠিক করে নেয়, জিপিএস ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো নিজেকে
গুছিয়ে নেয়, আর অবতরণ করার সময় সফটওয়্যার সিস্টেম ব্যবহার করে।

সাম্প্রতিক
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পাইলট বোয়িং ৭৭৭ বিমান পরিচালনা করে তারা ম্যানুয়ালি মাত্র
সাত মিনিট প্লেন নিয়ন্ত্রণ করে। আর যারা এয়ারবাস পরিচালনা করে তারা এরও অর্ধেকটা
সময় নিজেদের হাতে বিমানচালনার কাজ করে।  

কমার্শিয়াল
প্লেনগুলোও দিনের পর দিন আরো উন্নত হয়ে উঠছে। ‘একটি এয়ারবাস নিজেই বুঝতে পারে,
পাহাড়ের ওপর দিয়ে উড়া তার জন্য ঠিক হবে না।’ বলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব
টেকনোলজির অ্যারোনট এবং অ্যাস্ট্রোনটিক প্রফেসর। ‘এয়ারবাসগুলোতে একটা ওয়ার্নিং
সিস্টেম থাকে।’ সেটাও বেশ কাজে লাগায় বিমান নিজেই।

তবে
কি পাইলটদের দিন শেষ? প্রযুক্তির উন্নয়নে আর কেউ স্বপ্ন বুনতে পারবে না পাইলট
হবার? এমন প্রশ্নতো আছেই পাশাপাশি আর একটি প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ‘প্রযুক্তি
ব্যবহার করবেন বুঝলাম। কিন্তু যখন বিমানে বসেই মন দিয়ে বুঝে শুনে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে
হবে, তখন?’ জবাবও নিশ্চয়ই খুব শিঘ্রই মিলবে।