চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিদেশি বিনিয়োগে প্রতারণা-দুর্নীতির অভিযোগ কতোটা সত্য?

দুর্নীতি যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, টানা কয়েকবছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল বাংলাদেশ। এখন অবশ্য সেই অবস্থা না থাকলেও মাঝে মাঝেই আলোচনায় আসে দুর্নীতি। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রতারণার মতো বিষয়।

বিদেশি বিনিয়োগে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভ্যারওয়ে। কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন: ‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণা এবং দুর্নীতিই বড় বাধা।’

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে বাংলাদেশের চেষ্টার সাধুবাদ জানিয়েছেন এই কূটনীতিক। এমনকি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগও আমরা দেখেছি। কিন্তু এটাও ঠিক যে, শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক নিজেদের অভিযোগের পক্ষে তেমন কোনো দলিলপত্র দেখাতে পারেনি। সরকারের তখনকার কঠোর মনোভাবও প্রসংশনীয় ছিল। তাই বলে এবারের অভিযোগকে হাল্কা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। যেখানে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সরকারপ্রধান নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন, সেখানে কে বা কারা দুর্নীতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন, সেটা সামনে আসা জরুরি। নয়তো ডাচ রাষ্ট্রদূতের এই বার্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল তথ্য হিসেবে যাবে। এতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম আশ্বাস ছিল, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানের মতো অ্যাকশনে যাওয়ার। ডাচ রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের পর সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই অ্যাকশনে যাওয়ার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি।

সরকার চাইলে জঙ্গিবাদ এবং মাদকের মতো দুর্নীতি শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে সম্ভব হবে বলেই আমাদের আশাবাদ। এজন্য সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

Bellow Post-Green View