চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বাবা ত্রাণ কী?’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের পাঁচটিকড়ি গ্রামের পঞ্চাশ বছরের হেকমত আলী। জন্ম থেকেই তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। জীবন চালান ভিক্ষাবৃত্তি করে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও ছেলের বউ নিয়ে তার সংসার। করোনার প্রভাবে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ বন্ধ ছেলের। রাস্তাঘাট আর দোকানপাট বন্ধ থাকায় ভিক্ষাবৃত্তিও বন্ধ।

গেল পাঁচদিন ধরে ঘরেই ছিলেন। আজ আর চলার মতো তার ঘরে কোন খাবার নেই। তাই খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়েছেন আগের মতোই।

বিজ্ঞাপন

গেল ক’দিনে চারদিকে ত্রাণ বিতরণের খবর পেলেও তিনি ও তার পরিবারের কোন সদস্য পাননি সেই খোঁজ। ঘরে এসেও দিয়ে যায়নি কেউ সরকারি বে-সরকারি কোন ত্রাণ বা সহায়তা। আজ বাধ্য হয়েই রাস্তায় ঘুরছেন তিনি। কিন্তু সড়কে মানুষ না থাকায় তপ্ত রোদে পাঁচ ঘণ্টায় হেঁটে পেয়েছেন মাত্র পঁচিশ টাকা! এমনটাই বলছিলেন হেকমত আলী।

বিজ্ঞাপন

আরেকজন মোহাম্মদ আলী (৭৫)। স্ত্রী, নাতি এবং ছেলের বউ নিয়ে সংসার। ছেলে মারা গেছে প্রায় ২০ বছর আগে। এই বয়সেও এসে সংসারে হাল ধরতে হয়েছে তার। তিনি পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে বের হয়েছেন ভিক্ষা করতে। সকালে না খেয়ে বের হয়ে দুপুর সময় দোকান থেকে ভিক্ষার টাকায় একটা কেক কিনে খেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ চিত্র ঘাটাইলের পাচঁটিকড়ি গ্রামের হেকমত আলী বা ভূঞাপুরের চরঅলোয়ার মোহাম্মাদ আলীর নয় এমন অসংখ্য অসহায় হতদরিদ্ররা এখনও পায়নি কোন ত্রাণ সহায়তা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দৃষ্টিহীন হেকমত আলী ও মোহাম্মদ আলী ভূঞাপুর পৌরসভার ইবরাহীম খাঁ কলেজরোডে তপ্তরোদে লাঠি খুড়িয়ে খুড়িয়ে ভিক্ষা চেয়ে রাস্তায় হাটছে। এরমধ্যে অনেকে তাকে দেখে ভিক্ষা দিচ্ছে আবার অনেকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

হেকমতের মত মোহাম্মদ আলীও বলেন, সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। এই বৃদ্ধ বয়সে বের হয়েছি নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে। ছেলে মারা গেছে বহু আগেই। কী করোনা নাকি আইছে তাই মানুষ ভিক্ষাও দিচ্ছে না। সকালে বের হয়ে দুপুরে একটা কেক খেয়ে এখনও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি।

এসময় ত্রাণের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী উল্টো বলেন: ‘বাবা ত্রাণ কী?’