চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশী হাজির বর্ণনায় মিনার ভয়াবহ দুর্ঘটনা

পবিত্র হজ পালনের অংশ হিসেবে মিনায় শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে ৭ শতাধিক হাজির মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশী দু’জন হাজি। ঘটনার অল্প কিছুক্ষণ আগে তারা ওই স্থান ত্যাগ করে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা হাজি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে টেলিফোনে বলেন, ফজরের নামাজের পর পরই আমরা মুজদালিকা থেকে শয়তানকে পাথর মারার উদ্দেশ্যে জামরায় পৌঁছাই। আমরা যখন সেখানে গিয়েছিলাম তখন অতোটা ভিড় ছিলো না। পাথর মারার পর্ব শেষ করে আমরা যখন প্রায় ১২টা নাগাদ ওই স্থান ত্যাগ করছিলাম, তখন ভিড় একটু একটু করে বাড়তে থাকে। শয়তানকে পাথার মারার ওই স্থানটি চারতলা বিশিষ্ট, নীচের তলায় ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

হাজি গিয়াসউদ্দিন আরও বলেন, আমরা বের হয়ে আসার সময়ে নীচতলায় ওখানে একটি দলকে হালকা ধাক্কাধাক্কি করতে দেখেছি। নীচ তলা থেকে উপরে ওঠার স্থানটি একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ঢালু পথ। ঘটনার সময় ধাক্কাধাক্কির ফলে, ওই ঢালু পথে একজনের ওপরে আরেকজন পরে গিয়ে ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি।

তার পরিচিত বাংলাদেশী কোনো হাজির মৃত্যু বা আহত হননি জানিয়ে তিনি বলেন, আমার জানামতে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশীর হতাহতের কোনো খবর কানে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

প্রায় একই ধরণের বর্ণনা দিয়েছেন ১১৬ জন হাজির কাফেলা নিয়ে যাওয়া আরেকজন হাজি মাওলানা কাফিল উদ্দিন সরকার সালেহিন।

মাওলানা কাফিল উদ্দিন বলেন, আজকে ছিলো তিন শয়তানের মধ্যে বড় শয়তানকে পাথর মারার পর্ব। ওই ঘটনার আগে থেকেই মুজদালিকা ও জামরায় ছিলো প্রচন্ড গরম। হাজিদের জন্য বিভিন্ন স্থানে খাবার পানির ব্যবস্থা থাকলেও আজকে পানির কিছুটা সঙ্কট আমার চোখে পড়েছে। গরমের কারণে হাজিদের মধ্যে তাড়াতাড়ি পাথর মেরে ওই স্থান ত্যাগ করার প্রবনতা লক্ষ করেছি। ওই কারণে ঘটনা ঘটেছে বলে আমার ধারণা।

তারসাথে থাকা হাজিগণ ও পরিচিত বাংলাদেশী হাজিরাও ভাল আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী হাজির হতাহতের খবর পাইনি।

বাংলাদেশ থেকে এবার সর্বমোট ১ লাখ ৬ হাজার ৬০ জন হজে অংশ নিতে সৌদি আরব গিয়েছেন। মিনায় আজ বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশী হাজিদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়ার সুবিধার্থে হট লাইন (+৯৬৬৫৩৭৩৭৫৮৫৯ এবং +৯৬৬৫০৯৩৬০০৮২) চালু করেছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চালু করা দু’টি মোবাইল নম্বরে কল করে হাজিদের সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করা যাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Bellow Post-Green View