চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু কর্নারের বই: ‘জালিয়াতি’র বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর জন্য সরবরাহ করা বইয়ের ‘গ্রন্থ ও মেধাস্বত্ব’ নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে কিনা- তা তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে সেখানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হককে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ‘জালিয়াতি’র অভিযোগ ওঠা বইয়ের গ্রন্থ ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে বিবাদিদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণ করা হবে না, জানতে চেয়ে আজ রুল জারি করেছে আদালত।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ‘জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড’ ও ‘স্বাধীকা পাবলিশার্স’ এবং সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের স্ত্রী শারমীন সুলতানাকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কর্নারের বই ‘জালিয়াতি’র অভিযোগের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় বা স্বাধীন তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুলসহ এই আদেশ দেয়।

বিজ্ঞাপন

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সুলতানা সামসাদ।

এর আগে দুটি প্রকাশনা সংস্থার নামে ২০ কোটির বেশি টাকার বই সরবরাহ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন সোমবার এই রিট করেন।

রিটে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ‘জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড’ ও ‘স্বাধীকা পাবলিশার্স’ এবং সাংবাদিক নাজমুল হোসেন ও তার স্ত্রী শারমীন সুলতানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ৬৫ হাজার ৭০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু কর্নারে’ জন্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৩৯টি বই কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। এজন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৩০ কোটি টাকা। সেখান থেকে আপাতত ২৮ কোটি টাকায় আটটি বই কেনা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বই সরবরাহের নামে ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পায় প্রকাশনা সংস্থা জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড। আর স্বাধীকা পাবলিশার্স নামের প্রকাশনা সংস্থার নামে বরাদ্দ হয় ৩ কোটি ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা। এই দুটি প্রকাশনা সংস্থার সাথেই যুক্ত আছেন নাজমুল হোসেন নামের এক সাংবাদিক। যিনি যমুনা টেলিভিশনে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।

গণমাধ্যমের খবরে আরো বলা হয়েছে, বই কেনা প্রকল্পের মোট ২৮ কোটি ৭৮ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে ২০ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ টাকাই জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড ও স্বাধীকা পাবলিশার্সের নামে বরাদ্দ হয়। যেখানে জার্নি মাল্টিমিডিয়ার নামে সরবরাহ করা হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ এবং বঙ্গবন্ধুর সমগ্র কারাজীবন নিয়ে ‘৩০৫৩ দিন’ নামের বই দুটি। আর স্বাধীকা পাবলিশার্স থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ‘অমর শেখ রাসেল’ বইটি।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ বইটি প্রথম প্রকাশ করেছিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর ‘৩০৫৩ দিন’ প্রকাশ করেছিল কারা অধিদপ্তর। সেই বই জার্নি মাল্টিমিডিয়ার নামে প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ বইয়ের সম্পাদক অমিতাভ দেউড়ী তাকে না জানিয়ে বইয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ এবং বইয়ের ক্রেডিট লাইনে পরিবর্তন আনার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে ‘অমর শেখ রাসেল’ বইটি স্বাধীকা পাবলিশার্স প্রথম প্রকাশ করলেও এর সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য নাসরীন আহমেদকে না জানিয়েই তা প্রকাশ এবং বঙ্গবন্ধু কর্নারে সরবরাহ করার অভিযোগ করেছেন।