চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন আটক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে দেশে কোনো রকম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ইবনে মাসউদ মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে এসে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। একজনের নাম আবু বকর আর আরেকজনের নাম নাহিদ। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমি ও আমরা যারা শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত আছি, আমরা এটুকু বলতে পারি- কোনো ধরনের অরাজকতা বাংলাদেশে করতে দেবো না। অরাজকতা বলেন, ভাঙচুর বলেন, কোনো রকম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেবো না। যদি কেউ মনে করেন, তারা অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছেন, এটা তাদের ভুল ধারণা।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করতে দেওয়া হবে না বলে হেফাজতের নেতারা হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন। যদি কেউ মনে করেন, তারাই অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছেন, এটা তাদের ভুল ধারণা। আমি গতকাল ফেসবুকে দেখেছি একটা ছোট ছেলে বলছে যে, মুক্তিযুদ্ধে কত শহীদ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি রক্ত হেফাজতের তারা দিয়েছে। এ যে মিথ্যাচার, এ যে বিভ্রান্তি অল্প বয়সের ছেলের মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে এটা তারা জেনে শুনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা আপনারা জানেন, পৌরসভা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করেছিল। এটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষই করেছিল। হঠাৎ করে দেখা গেলো গভীর রাতে এসে…দুইজনের ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে। তারা দু’জন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙেছে। ’

তিনি বলেন, ‘তাদের বক্তব্য ফেসবুকে আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন। আমরাও বিভিন্ন সময়ে দেখেছি। একজনের নাম বারবার চলে আসছে। তারই বক্তৃতা কিংবা তারই নির্দেশে এ ঘটনাগুলো ঘটছে। আমরা অনুসন্ধানের পর তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। এখন পর্যন্ত তদন্ত চলছে, তাই আমি তার নামটি বলছি না। এ যে উস্কানি দিচ্ছে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বের করে নিয়ে আসছে। এটা নিশ্চয়ই কারো কাম্য নয়। আমরা অবশ্যই এটা দেখবো।’

হেফাজতের কিছু নেতা উস্কানিমূলক বক্তব্য এ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। হেফাজতের শীর্ষ নেতারা হুকুমের আসামি হবেন কিনা- একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘হেফাজতের নেতা হবে কি না, কে হবেন সেটা তদন্তের ব্যাপার, তদন্তে যার নাম বেরিয়ে আসবে তার নামেই মামলা হবে, এটা স্পষ্ট।’

সরকার এখন ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি রিভিউ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার রিভিউ করবে কিনা, এটা সরকারের বিষয়। আমাদের বিষয় হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেবো। ’

দেশে আরও বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য রয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো যারা ভাঙবে তারা তো নিশ্চয়ই না জেনে মূর্খতার পরিচয় দেবে। নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখবো। ’

সরকার কী হেফাজতের বিষয়ে নমনীয়- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারো প্রতি নমনীয় নই। যেটাই আমাদের সামনে আসছে সেটাই আমরা দেখছি। আমরা জনগণকে নিয়েই চলি, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করি। কাজেই জনগণ যেটা চায় সেটাই প্রতিফলিত হবে, সরকার সেটাই করবে। ’