বিশিষ্ট কলামিস্ট, লেখক, কবি ফরহাদ মজহারকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ বাহিনী উঠিয়ে নিয়েছিল আবার তারাই ফিরিয়ে এনেছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটি এই ঘটনাকে সরকারের সাজানো নাটক বলছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চ্যানেল আই অনলাইনকে এমন দাবি করেন।
ফরহাদ মজহারের উদ্ধার হওয়ার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এটি আওয়ামী লীগের চিরচারিত নাটকের অংশ। বিরোধী মতকে তারা সহ্য করতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে কিছু গেলেই তারা এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী মত দমন করার চেষ্টা চালায়। এটি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফরহাদ মজহার সরকারের অন্যায়-অবিচারের সমালোচক। তাই তাকে ভীত সন্ত্রস্ত করে কণ্ঠস্বর রোধ করতেই এমন নাটক সাজিয়েছিল সরকার। দেশের বিরোধী মত, পথকে দমন ও কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে সরকার ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
জন নিরাপত্তার প্রশ্নে রিজভী বলেন, ফরহাদ মজহারের মতো একজন জনপ্রিয় কলামিস্ট, কবি ও মুক্তমনা ব্যক্তির ওপর যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন খড়গ নেমে আসে তখন এই দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন, ফরহাদ মজহারকে মামলার মাধ্যমে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমনটাই শুনছি। আমি এখনো নিশ্চিত না। আমরা তার নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।
এবিষয়ে আপনারা কোন আন্দোলনে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, সে বিষয়ে আমরা পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাদের জানাব।
সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের ‘হক ভবন’ থেকে স্বাভাবিক পোশাকে, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বের হয়েছিলেন ফরহাদ মজহার। কিছুক্ষণ পরে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই জানিয়েছিলেন, কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
সেসময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ফরহাদ মজহার নিয়মিত যে নম্বর ব্যবহার করেন তার বদলে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন এমন নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে ফোন আসে।
প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন।
এরপর নিখোঁজ লেখক-কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার মোবাইল ট্রাকিংয়ের ম্যাধমে মোবাইলের লোকেশন সনাক্ত করে খুলনার কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় নগরীর সোনাডাঙ্গা অ্যাপ্রোচ রোড ও ইব্রাহিম মিয়া সড়কে এ অভিযান শুরু হয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ইব্রাহীম মিয়া সড়কের ১০/১২টি বাড়িতে র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়েছিল।
গতরাতে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে উদ্ধারের পরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর আদাবর থানায়। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
রাজধানীর আদাবর ধানায় পরিবারের দায়ের করা অপহরণ মামলায় কবি ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে।










