চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধসহ সার্বিক বিচারে এই ফলাফল ইতিবাচক

এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবার সারাদেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮ হাজার ৯৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। ১০টি বোর্ডে এ বছরের পাসের হার ৬৬.৬৪ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮.৯১ শতাংশ। সেই তুলনায় পাসের হার কমেছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ হাজার ২৬২। গত বছর ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এবার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গেল কয়েকবছরের মধ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থার মধ্যে। সরকার ও প্রশাসন আন্তরিক হলে যেকোনো কিছু সম্ভব, সেপথেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারি কাটিয়ে এ পরীক্ষা ছিল একটি দৃষ্টান্ত। পাসের হার ও জিপিও-৫ কিছুটা কমলেও সার্বিক বিচারে এই ফলাফল ইতিবাচক বলেই আমাদের মনে হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলে এ বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোট ৪শ’টি। গত বছরের চেয়ে এ সংখ্যা ১৩২টি কমেছে। তবে শূন্য পাসের হার থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ১৭টি কমে এ বছর ৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। মিশ্র এই পরিস্থিতিতে উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে, এ বছর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সংখ্যা ছিল গতবারের চেয়ে বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৭ জন পরীক্ষার্থী বেড়েছে। ফলাফল যাই হোক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়া শিক্ষাখাতে অগ্রগতির একটি ইতিবাচক নমুনা।

পাস করা এইসব শিক্ষার্থী উচ্চ ও প্রায়োগিক শিক্ষা লাভের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। সেখান থেকেই বের হয়ে আসবে জাতির ভবিষ্যত জনশক্তি। তাদের সবার জন্য শুভ কামনা। তবে যে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি বা পাস করা অনেকে কাঙ্খিত ফল পায়নি, তাদের হতাশ হবার কিছু নেই বলে আমরা মনে করি। তাদের সামনে ভবিষ্যতে অনেক সময় আছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার।  সেইসব শিক্ষার্থীর উপরে যেন কোনো মানসিক-সামাজিক চাপ তৈরি না হয় তাদের অভিভাবকদেরও এ বিষয়টি বুঝার দরকার আছে। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পথে এই ধাপ পার হওয়ার প্রক্রিয়ায় সফলতা ও সাময়িক ব্যর্থতা আসা স্বাভাবিক বিষয়। এসব মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতি গঠনে প্রস্তুত হবে, এই আমাদের আশাবাদ।