চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিদিন কফি খাওয়ার জাদুকরী উপকারিতা

সকালে ঘুম থেকে উঠে হোক বা দিনের শেষে বিকেলে হালকা নাস্তার সময়ে নিজেকে রিফ্রেশ করতে এক কাপ কফির বিকল্প কেউ কেউ ভাবতেই পারেন না। তবে শুধু ঘুম তাড়াতেই নয় বরং আরো নানান কারণে দরকার আছে কফির। জেনে নিন কফির কিছু গুণাগুণের কথা। তাহলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এক কাপ কফি রাখতে খুব একটা ভুল হবে না। আর তাতে ফলাফলটাও কিন্তু খুব কম পাবেন না।

নিজেকে স্মার্ট করে তুলতে চান? তাহলে নিয়মিত কফি খান। কফিতে থাকা সবচেয়ে সক্রিয় উপাদানটির নাম ক্যাফেইন। কফি আপনার উদ্দীপনাকে খানিকটা বাধাগ্রস্ত করবে। তার মানে আপনি যদি একটু কোলাহলযুক্ত এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশে কাজ করেন তাহলে কফি আপনাকে এই পরিস্থিতিতেই অমনোযোগ কাটিয়ে কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। সুতরাং পছন্দের পরিবেশ না পেলেও স্মার্টভাবেই কাজ শেষ করতে পারবেন আপনি।

বিজ্ঞাপন

ডায়েট আর জিমের চাপে ভারাক্রান্ত আপনি ওজন কমাতে নির্ভর করতে পারেন কফির উপর। কফি আপনার শরীরের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করবে এবং শারিরীক কার্যক্ষমতা বাড়াবে। সকালে জিম শুরু করার আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি খান। গবেষকরা বলছেন, এতে করে আপনার শরীর থেকে বেশি বেশি ফ্যাট ও ক্যালোরি ক্ষয় হবে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও কমায় কফি। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত কফি খায় তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম হয়। এই ঝুঁকি কমানোর পরিমাণটা ২৩ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। জটিল এই রোগের ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচতে যদি কফি কাজ করে তাহলে কফি খেতে সমস্যা কোথায়?

কফি আলঝেইমার্স ও পারকিনসন্স রোগের বিরুদ্ধেও লড়ে। বয়স বাড়লে কফি আপনার মস্তিস্ককে সুরক্ষা দেয়। এককাপ কফি যদি আপনাকে রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে তাহলে রোজদিন এককাপ কফি কোনো দ্বিধায় ভোগা মোটেও ঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

অকালমৃত্যু রোধেও বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে কফি। তাই তো গবেষণায় দেখা যায় যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের অকালে মৃত্যুর হার খানিকটা হলেও কমে।

পুষ্টিগুণ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই পানীয়টি। কফিতে ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি২, থায়ামাইন বি১, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। শুধু তাই নয় কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনাকে রাখবে আরো বেশি সতেজ।

মানসিক চাপে বিপর্যস্ত আপনি? কি করবেন না করবেন বুঝে উঠতেই পারছেন না। তাহলে এক কাপ কফি খান। আপনার মানসিক ও শারিরীক চাপ মোকাবেলা করতে খানিকটা হলেও সহায়তা করবে কফি। ফলে চাপের কারণে যেসব রোগ দানা বাঁধে শরীরে সেসবও প্রতিরোধে সাহায্য করে কফি।

স্কিনক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবেও বেশ কার্যকর কফি। ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের একটি গবেষণাপত্রে সম্প্রতি জানিয়েছে প্রতিদিন কফি পান করলে সেটা শরীরে ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে ত্বক রক্ষা পায় ক্যান্সারের হাত থেকে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে কফি শুষ্ক চোখের সমস্যা সমাধানেও বেশ কার্যকর। ক্যাফেইন চোখের অশ্রুগ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে সেই সঙ্গে সেটা সালিভা এবং পাচকরস তৈরি বাড়ায়।

প্রতিদিন এক কাপ কপি যদি আপনাকে এত এত উপকার দেয় তাহলে অন্য কোনো পানীয় ছেড়ে কফির দিকে ঝুঁকতে বাধা কিসের। সুতরাং আজ থেকেই শুরু হোক কফিপ্রীতি।

Bellow Post-Green View