পর্নো অভিনেত্রী স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অর্থ দিয়ে তার সঙ্গে কথিত সম্পর্ক গোপন রাখার চেষ্টা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি দায়িত্বের অংশ নয়। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তির আওতায় পড়বে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্পের ‘ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ’ মামলাটি অঙ্গরাজ্যের আদালত থেকে ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের আবেদন তৃতীয়বারের মতো খারিজ করার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।
বিচারক হেলারস্টেইন বলেন, স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অর্থ দেওয়া কিংবা তাদের কথিত সম্পর্ক আড়াল করার চেষ্টা প্রেসিডেন্টের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাই ২০২৪ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তিসংক্রান্ত রায় দেখিয়ে ট্রাম্প এই মামলায় দায়মুক্তি দাবি করতে পারেন না।
মামলাটির কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ড্যানিয়েলসকে দেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ট্রাম্পের তৎকালীন সহযোগী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যাতে ড্যানিয়েলস ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলেন। ট্রাম্প অবশ্য ড্যানিয়েলসের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২৪ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি ট্রাম্পকে ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতির ৩৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো সাবেক বা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা দাবি করে আসছেন, সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের রায়ে প্রেসিডেন্টদের সরকারি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার আওতায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই মামলাও পড়ে। তবে হেলারস্টেইন বলেন, ড্যানিয়েলসকে অর্থ দেওয়া বা সম্পর্ক গোপন করার চেষ্টা কোনোভাবেই প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ নয়।
এর আগে মামলাটি ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের ট্রাম্পের আবেদন দুইবার খারিজ হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত সুপ্রিম কোর্টের দায়মুক্তিসংক্রান্ত রায়ের আলোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের পরও এবার ট্রাম্পের আবেদন খারিজ করলেন হেলারস্টেইন।









