চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পন্টিং এমন আচরণ করতো যেন নিজেই আম্পায়ার’

২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়া-ভারত টেস্ট সিরিজ ইতিহাসে বিতর্কিত নানা কারণে। সিরিজে সিডনি টেস্টে হরভজন সিং-অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের দ্বন্দ্ব ইতিহাসে কুখ্যাতি পেয়েছে ‘মাঙ্কিগেট’ কেলেঙ্কারি হিসেবে। একযুগ পর সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলে হরভজন দায় অনেকখানি তুলে দিলেন অজিদের সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের কাঁধে!

হরভজন-সাইমন্ডসের দ্বন্দ্বের পেছনে ভুল আম্পায়ারিংয়ের অনেকখানি দায় ছিল বলেই মনে করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। ভুল আম্পায়ারিংয়ে যেমন ম্যাচ হেরেছিল ভারত, তেমনি তাঁতিয়ে দিয়েছিল দলটির খেলোয়াড়দেরও।

বিজ্ঞাপন

সিডনি ম্যাচের এক অংশ নিয়ে ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার ইউটিউব চ্যানেলে মুখ খুলেছেন স্পিনার হরভজন সিং, ‘২০০৮ সালের সিডনি ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গেলেই আমার মাথায় আসে পন্টিং যেন নিজেই সেদিন আম্পায়ার হয়ে গিয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

‘সে একটি করে ক্যাচ নিয়ে নিজে নিজেই রায় দিয়ে দিচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ানরা বলে যে মাঠে যা ঘটবে তা মাঠেই থাকবে। কিন্তু আমার আর সাইমন্ডসের মধ্যে যা হয়েছিল তা ছাপিয়ে গিয়েছিল মাঠের বাইরেও।’

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের এক পর্যায়ে সৌরভ গাঙ্গুলির মাটি ঘেঁষা এক ক্যাচ নেয়ার পর আঙুল তুলে আউট দাবি জানান পন্টিং। আসলেই আউট ছিল কিনা তা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। পরে যা জন্ম দেয় বিতর্কের। এমনকি ম্যাচের ধারাভাষ্য কক্ষেই পন্টিংয়ের এমন আচরণের সমালোচনা করেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার।

ম্যাচে সাইমন্ডসের সঙ্গে কি হয়েছিল তা নিয়েও কথা বলেছেন হরভজন, ‘আমি আর সাইমন্ডস খুব কাছাকাছিই ছিলাম। একমাত্র টেন্ডুলকারই আমাদের কাছে ছিলেন, আর কেউ না। কিন্তু যখন শুনানি শুরু হয় তখন ম্যাথু হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইকেল ক্লার্ক ও রিকি পন্টিং দাবি করে যে ভাজ্জি(হরভজন) যা বলেছে আমরা সবাই তা শুনেছি।’

‘আমি বুঝলাম না এরা তখন কোথা থেকে উদয় হল, এমনকি শচীন টেন্ডুলকারও জানতেন না আমরা সেদিন কি বলেছিলাম। একমাত্র আমরা দুজনেই সেদিনের কথা জানতাম। আমাকে অভিযুক্ত করা হল, তদন্ত শুরু হল। আমার সঙ্গে যা হচ্ছিল তাতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে কী হতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া আমাকে মাইকেল জ্যাকসন বানিয়ে দিচ্ছিল, যেখানেই যাই সেখানেই শুধু ক্যামেরা।’

‘মাঙ্কিগেট’ কেলেঙ্কারির পর বর্ণবাদ ও অনিয়ন্ত্রিত কথাবার্তার জন্য হরভজনকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করেন ম্যাচ রেফারি মাইক প্রক্টর। পরে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।