চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিষিদ্ধ হয়ে যে শিক্ষা পেয়েছেন সাকিব

ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাসনে আছেন সাকিব আল হাসান। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত আইসিসির কোনো আইন বিরোধী কাজ না করলে শাস্তিটা কমে আসবে একবছরে। নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন পরিস্থিতি এলেও সবকিছু থেকেই শিক্ষণীয় বিষয় আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলেকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এখন থেকে কোনো কিছুকেই হাল্কাভাবে নেবেন না।

‘আমি শিখেছি কিছু কিছু বিষয়কে একদমই হাল্কাভাবে নেয়া উচিত নয়। আমার জীবনে এটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় শিক্ষা।’

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও সেটা গোপন করার মতো তিনটি অভিযোগে সাকিবকে দুবছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। যার একবছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। সাজার সব শর্ত মেনে চললে চলতি বছরের ২৯শে অক্টোবর থেকে মাঠে ফিরবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন সাকিবের স্ত্রী শিশির। পরিবারসহ এখন সেখানেই আছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে সাকিবের ভাষ্য, ‘আমার জন্য ভীষণ এক কঠিন সময়। কারণ আমার বারবার মনে হতো যে, খেলছি না বা খেলতে পারবো না। তবে একটা বিষয় ভালো, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে পারছি।’

সদ্যজাত কন্যাসহ সাকিব ও পরিবার

‘আমার প্রথম কন্যার জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে পারিনি। চেষ্টা করেছি লকডাউনের সময়ও তাদের পাশে থাকতে। একটা বিষয় নিশ্চিত করতে চেয়েছি, আমি মোটেও হতাশ নই, আর আমার বাড়িতেই লকডাউনে আছি।’

বিজ্ঞাপন

২০১৯ বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে সবচেয়ে অসাধারণ মুহূর্ত কাটিয়েছেন সাকিব। ৮৬.৫৭ গড়ে করেছেন ৬০৬ রান। ক্রিকেটে ফেরার পর এই ফর্মটাই ধরে রাখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

‘প্রথমত, আমি ক্রিকেটে ফিরতে চাই। আর পাঁচ মাস পরেই খেলায় ফিরতে পারবো। এর আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যেখানে শেষ করেছিলাম, আবারও সেখান থেকেই শুরু করা।’

‘আশা করি যেখানে শেষ করেছিলাম, সেখান থেকেই শুরু করতে পারবো। এটাই আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যকিছু না।’

বিশ্বকাপে তিনে নেমে ব্যাট করেছিলেন সাকিব। জানিয়েছেন, সাউথ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স তাকে উৎসাহিত করেছেন এ পজিশনে খেলার জন্য।

গত বিশ্বকাপে সোনালী মুহূর্তে

‘বিপিএলে ভিলিয়ার্সের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সাধারণ কথাবার্তা। সে আমাকে এক ইনিংসের কথা উল্লেখ করে বললো, সে যদি তিনে নামত তাহলে দলের জন্য আরও বেশি রান করতে পারত। তাহলে দল আরও বেশি রান পেত।’

‘দলের কথা ভেবে সে প্রায়ই চার, পাঁচ, ছয়ে নেমে ব্যাট করেছে। তার কথা হচ্ছে, দলের মিডলঅর্ডারে গিয়ে ব্যাট করো, আর ৭০-৮০টা রান করে দিয়ে আসো। এটা কখনো কাজে লাগে, কখনো না। কিন্তু যদি সে তিনে ব্যাট করত, তাহলে দেখা যেত ১০০-১২০টা রান করেছে, আর দলও হয়তো জিতেছে।’