চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ছিটকিনি’ নির্মাতা সাজেদুল আউয়াল আর নেই

কোভিড পরবর্তী জটিলতায় মারা গেছেন চলচ্চিত্র গবেষক ও ‘ছিটকিনি’ খ্যাত নির্মাতা সাজেদুল আউয়াল। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চ্যানেল আই অনলাইনকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন সাজেদুল আউয়ালের একমাত্র ছেলে ইশরাত শামীম অনন্ত।

বিজ্ঞাপন

অনন্ত জানান, বাবা গত মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে তার করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ আসলে ১৯ মার্চ বাসায় নিয়ে আসা হয়। শারীরিক ভাবেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। কোভিড পরবর্তীতে আমরা চেকাপ করিয়েছি, চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন বাবার সমস্ত কিছু ঠিকঠাক। কিন্তু আজ সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই শরীর খারাপের কথা বলেন বাবা। কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তখন অ্যাম্বুলেন্স কল করি। অ্যাম্বুলেন্স আসেও, কিন্তু খুব দ্রুত বাবার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

রাত ১১টার দিকে সাজেদুল আউয়ালের ছেলে জানান, বাবার মরদেহ নিয়ে তিনি মারকাজুলে আছেন। এখানে গোসল করিয়ে লাশবাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে হাতিরপুলের বাড়িতে। রাতে সেখানেই রাখা হবে।

দাফন বিষয়ে তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় কাঁটাবন মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে হবে দাফন।

তিতাসের তীরে জন্ম নেয়া সাজেদুল আউয়াল মঞ্চের নেপথ্যকর্মী হিসেবে ঢাকা থিয়েটার-এ কাজ শুরু করেন ১৯৭৩ সালে। কাজ করেন শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যা নিকেতন, সিনে আর্ট সার্কেল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ-এ (১৯৭৪-১৯৮১)। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র : সমাজবাস্তবতা ও নির্মাণভাবনা’র জন্য পেয়েছেন ডক্টর অব ফিলসফি উপাধি (২০০৯)। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম-এর সাথে প্রতিষ্ঠাকাল (১৯৮৬) থেকে জড়িত। বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য, এশিয়াটিক সােসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সদস্য। কাজ করেছে বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বাের্ড-এর সদস্য (২০০৯-২০১০), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২-এর জুরি বোর্ড-এর সদস্য (২০১২), পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বাছাই কমিটির সদস্য (২০১৩-২০১৫) ও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ জার্নাল-এর নির্বাহী সম্পাদক (২০০৮-২০১১ ও ২০১৪-২০১৫) হিসেবে।

বাংলা নাটকে নারী-পুরুষ ও সমাজ (১৯৯৯), চলচ্চিত্রকলা (২০১০), চলচ্চিত্রকলার রূপ-রূপান্তর (২০১১), চলচ্চিত্রচর্যা (২০১৬), নাট্যচর্যা (২০১৮) তার উল্লেখযোগ্য মৌলিক রচনা। এছাড়া তার সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে ঋত্বিকমঙ্গল (২০০১), সত্যজিতের স্রষ্টাবৃত্তি (২০১৩), বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের ইতিবৃত্ত (২০১৪), মৃণালমানস (২০১৫) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

২০১৭ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম পূর্ণৈদর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছিটকিনি’। সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।