চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্দিষ্ট ধরনের কাজ করে যাওয়া শুভ লক্ষণ নয়: মোশাররফ করিম

মাত্র একটি সিনেমা দিয়ে কলকাতার মানুষের ভালোবাসার ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। সেখানকার সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে দাপুটে অভিনেতা, পরিচালকরাও মোশাররফ করিমের প্রশংসায় বুঁদ।

গেল ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় মোশাররফ করিমের প্রথম কলকাতার সিনেমা ‘ডিকশনারি’ মুক্তি পায়। মোশাররফ ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেন আবীর, নুসরাতের মতো শিল্পীরা। তাদের ছাপিয়ে মোশাররফ করিম ওই সিনেমায় হয়ে ওঠেন সবেধন নীলমনি।

বিজ্ঞাপন

কলকাতায় গত ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পেয়েছে মোশাররফ করিমের ‘ডিকশনারি’

সিনেমাটি মুক্তির ঠিক দু’দিন আগে মোশাররফ করিম গিয়েছিলেন কলকাতায়। সেখানে তিনি ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন। কাছ থেকে দেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে উন্মাদনা।

পশিমবঙ্গে মোশাররফ করিমের নাটকের ভক্তরা মিলে তৈরি করেছেন ফ্যান ক্লাব। তারা মোশাররফ করিমকে নানাভাবে শুভেচ্ছা জানান। সেই সবকিছু ছুঁয়ে গেছে মোশাররফ করিমকে। সিনেমাটির পরিচালক ব্রাত্য বসু নিজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আবারও মোশাররফ করিমকে নিয়ে তার পরের সিনেমাগুলোতেও কাজ করবেন।

তিনি মোশাররফকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, মোশাররফ করিমের মধ্যে যা পেয়েছেন, অন্য কারও মধ্যে তা পাননি। এমনকি তিনি মোশাররফ করিমকে একটি অভিনয় সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এফডিসিতে ‘মুখোশ’ ছবির শুটিংয়ে মোশাররফ করিম

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যার পর এফডিসিতে ইফতেখার শুভর পরিচালনায় মোশাররফ করিম তার নতুন সিনেমা ‘মুখোশ’-এর শুটিং করছিলেন। যেখানে তিনি একজন লেখকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন।

শুটিংয়ের ফাঁকে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে আলাপে মোশাররফ করিম বলেন, এমন করোনাকালেও ‘ডিকশনারি’ সিনেমাটি ভালো চলছে। সেখানকার দর্শক পছন্দ করেছেন এটাই আনন্দের বিষয়। সিনেমাটি বাংলাদেশের দর্শকরাও দেখতে চান। কোন প্রক্রিয়ায় সিনেমা হলে চালানো যাবে আমার জানা নেই। তবে ওটিটির মাধ্যমে হয়তো আগামীতে দেখার সুযোগ মিলবে।

পরিচালক ব্রাত্য বসু তার পরের সব সিনেমাগুলোতে মোশাররফ করিমকে নিতে চান। একটি সিনেমার পরই যখন পরিচালক বলেন, পরের সবগুলো সিনেমাতে তিনি মোশাররফকে নিতে চান। সেটা শোনার পর সেই শিল্পীর কেমন অনুভূতি? হাসিমুখে মোশাররফ করিমের উত্তর, এটা অনেক বড় পাওয়া। তিনি বলেন, ওনার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় ওঠাবসা এমনটা মোটেও নয়। কাজ করতে গিয়ে শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর সম্পর্ক হলো। উনি আমার অভিনয় পছন্দ করলেন। পরিচালক হিসেবে ওনাকেও আমার দারুণ লেগেছে।

কলকাতায় মোশাররফ করিম যাওয়ার পর শুধু ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষিরাই নয়, তাকে নিয়ে সেখানকার শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বেশ লেখালেখি হয়েছে। এমনকি তাকে এও বলা হয়েছে যে, ‘মোশাররফ করিম হচ্ছেন বাংলাদেশের শাহরুখ খান’।

এ বিষয়ে ‘কমলা রকেট’ এই অভিনেতা বলেন, আমি তুলনা পছন্দ করি না। কারণ আমি অন্য কারো মতো কখনোই হতে চাইনি, আমি আমার মতোই হতে চেয়েছি। হয়তো বাংলাদেশে আমার দর্শকপ্রিয়তাকে বোঝাতে তারা এমনটা বলেছেন।

বর্তমানে ঈদের নাটকগুলো নিয়ে কাজ করছেন মোশাররফ করিম। তিনি বললেন, এবার একটু রয়ে সয়ে কাজ করছি। নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে মোশাররফ করিম বলেন, আমি ধরনে বিশ্বাসী না। আর্ট ধরন বিশ্বাস করে না। তাহলে আর্ট টাইপড হয়ে যায়। আর্টের সকল দিক খোলা থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘ প্র‌্যাকটিসে কী দেখছি, দেখা গেলো আমি অমুক ধরনের একটা নাটক করলাম, এবং সেটা হিট হয়ে গেলো। এরপর দেখা যায় সবাই একই ধরনের নাটক শুরু করে দিয়েছে। এটা শুভ লক্ষণ নয়।

হইচইয়ের জন্য আশফাক নিপুণের ‘মহানগর’ এ মোশাররফ করিম

তিনি বলেন, নাটক বা সিনেমা যৌগিক শিল্প। এটা একক শিল্প নয়। আমার মধ্যে কবিত্ব থাকলে শুধু কাগজ কলম হলেই কিন্তু আমি একটা কবিতা লিখে ফেলতে পারি, কারণ কবিতার লেখার বিষয়টা একক শিল্প। কিন্তু একজন অভিনেতা যতোই অসাধারণ হোক, নাটক বা ফিল্মে তার খুব বেশি কিছু করার থাকে না। কারণ এখানে বহু জনের অংশ গ্রহণ থাকে। একইভাবে ডিরেক্টরের ক্ষেত্রেও তাই। কারণ নাটক সিনেমা যৌগিক শিল্প। এখানে যারা কাজ করেন, সবার রুচি ও শিল্পবোধের জায়গাটা ক্লিয়ার থাকলেই কেবল একটা প্রোডাকশন দারুণ হয়।

সম্প্রতি আশফাক নিপুণের ‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন মোশাররফ করিম। এটির শুটিং শেষ করেছেন। এই অভিনেতা দৃঢ়ভাবে জানালেন, আশফাক নিপুণ সুনিপুণ ভাবে কাজটা করেছেন। আমার মনে হচ্ছে, এই কাজটা খুব ভাল হবে।