চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নানজীবা খানের দ্যা আনওয়ান্টেড টুইন

মারুফ রিমন: বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হল “দি আনওয়ান্টেড টুইন”। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই বাংলাদেশের অধিকাংশ তারকাদের প্রোফাইলে মুখে ফেইস পেইন্ট করা প্রপ্স হাতে ভিন্নধর্মী ম্যাগাজিন কভারের মত ছবি দেখা যাচ্ছে। একই নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রের পোস্টারও রিলিজ পেয়েছে। অনেকেই বুঝে উঠতে পারছে না এটি কী? কোন উদ্দেশ্যে করা কেনইবা বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশার ১ম সারির ২০০ জন পরিচিতমুখ একই প্রজেক্টের মডেল হয়ে গেলেন? এই সকল রহস্যের সমাধান দিতে পারেন একজনই আর সে হল নির্মাতা নানজীবা খান।

চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথোপকথনে প্রজেক্ট ডিরেক্টর নানজীবা জানান দি আনওয়ান্টেড টুইনের আদ্যপান্ত।

বিজ্ঞাপন

“দি আনওয়ান্টেড টুইন” কী?

– “দি আনওয়ান্টেড টুইন” একটি এক্সপেরিমেন্টাল সিএসআর (কর্পোরেট সোসিয়াল রেসপন্সিবিলিটি) প্রজেক্ট। যেখানে ১৭টি এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল)কে কেন্দ্র করে ২০০টি সামাজিক সমস্যা ভিজুয়াল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ও ফটোশুটের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। প্রজেক্টির নাম “”দি আনওয়ান্টেড টুইন” – এ সিএসআর অ্যাওয়ারনেস এক্সপেরিমেন্টাল কোলাবোরেশন প্রজেক্ট ফর এসডিজি, এ ক্রিয়েশন বাই নানজীবা খান।

প্রজেক্টের নাম দি আনওয়ান্টেড টুইন কেন?

– অনেকের ধারণা এটা যমজ মানুষজনদের নিয়ে কোনো কাজ, যেটা একদম ভুল। আক্ষরিক অর্থে আনওয়ান্টেড মানে অবাঞ্ছিত। দি আনওয়ান্টেড টুইন মানে মানুষের লুকায়িত “দ্বৈত সত্ত্বা ”। তাই আমরা চেহারা দুই ভাগ করে কাজ করছি।

এটিকে এক্সপেরিমেন্টাল বলা হচ্ছে কেন?

– আমরা চেহারা ভাগ করে কাজ করছি। এক সাইডে পজেটিভ আরেক সাইডে নেগেটিভ ক্যারেক্টার। ধরে নেন আমরা পানি দূষণ যেভাবে তুলে ধরেছি, একপাশে প্রানবন্ত লুক হাতে পরিষ্কার পানি আরেকপাশে চোখে ডার্ক সার্কেল, মুখে ব্রণের দাগ অসুস্থ লুক আর হাতে ময়লা পানি। সাথে মিলিয়ে গ্রাফিক্সের ব্যাকগ্রাউন্ড। কোটেশন হতে পারে “দূষিত পানি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”। এইভাবে ফেইস আর্ট, প্রপ্স ও গ্রাফিস্কের ব্যাকগ্রাউন্ড এই ৩টি জিনিসের কম্বিনেশনে আমরা ২০০টি ইস্যু তুলে ধরেছি। আর পোশাকের ক্ষেত্রে রেড অরিজিন বিশেষ সাপোর্ট দিয়েছে।

কারা কারা কাজ করেছে?

– মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জ ই মামুন, মারিয়া নুর, শিমুল মোস্তফা, শম্পা রেজা, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাখাওয়াত মুন, চিত্রনায়িকা ববি হক, জিতু আহসান, সানারাই দেবী সানু, অন্তু করিম, তাউহিদ আফ্রিদি, দেবাশিষ বিশ্বাস, তানজিব সারোয়ার, আরজে নীরব, ডি যে সনিকা, পিন্টু ঘোষ, মাবরুর রশিদ বান্নাহ, মীর সাব্বির, শ্বাগতা, বন্যা মির্জা, তানহা তাসনিয়া, অর্সা, তাসকিন রহমান, তুষ্টি, মডেল ইমি, রুমা, বুলবুল টুম্পা, আসাদুজ্জামান নুর, আফসানা মিমি, মৌসুমি হামিদ, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ তোরসা, ফেরদৌস বাপ্পী, শারমিন আঁখি, দোয়েল ম্যাস, কণ্ঠ শিল্পী মিলন মাহমুদ, পূজা, লুইপা, বেলাল খান, ইলিয়াস হোসাইন, জুয়েল, সপ্লীল সজীব, সাবরিনা সাবা, ঝিলিক, প্রতীক হাসান, সুকন্যা তিথি, নওশাবা, নাদিয়া, চাঁদনী, রাহা তানহা খান, মৌসুমি মৌ, শ্রাবন্য তাউহিদা, শান্তা জাহান, মুনমুন আহমেদ, মৌটুসি বিশ্বাস, মুস্তাফিজ গুলজার, ফটোগ্রাফার প্রীত রেজা, শাওন, সারিকা সাবাহ, মনির খান শিমুল, মিশু সাব্বির, এফ এস নাইম, সানজিদা প্রীতি, আলিসা প্রধান, লাক্স স্টার মীম মানতাসা, চৈতি, সামিয়া অথৈ,অ্যানি খান, রাজু আলীম, লাভগুরু তামিম, কায়েস চৌধুরী, এভ্রিল, সাকিব বইন রশিদ, সামদানী ডন, ইরেস যাকের, স্পর্সিয়া, মাজনুন মিজান, সালমান মুক্তাদির, হৃদি হক, দিলারা জামান, শতাব্দী ওয়াদুদ, ববি হাজ্জাজ, হাসান মাসুদ, ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক ও লিপি খন্দকার, সানজু জন, হোমায়রা হিমু, ছন্দা, শিরিন আলম, আরজে ত্যাজ, অহনা, ফারজানা চুমকি, সূচনা আজাদ, নাজনিন মুন্নী, সাইদ বাবু, শাহিদুল আলম সাচ্চু, জাকিয়া বারী মম সহ কর্পোরেট, পলিটিক্যাল, মিডিয়া বিভিন্ন পেশার ২০০ জন আইকনরা মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রজেক্টের দুটি অংশে নেপথ্যে কারা কাজ করেছে?

ডকুমেন্টারিতে সিনেমাটোগ্রাফার ছিল আমির হামজা, আনন্দ সরকার, পাভেল মাহমুদ জয়, সম্পাদনা খুরশীদ আলম, প্রডাকশন ডিজাইনার আলোক হাসান, লজিস্টিক সাপোর্ট টাইগার মিডিয়া, কো- প্রডিউসার ফয়সাল আনোয়ার প্রতীক, পোস্টার করেছে সাজিদুল ইসলাম সায়েম, মিউজিক পিন্টু ঘোষ। আর ফটোশুটে চিফ মেকআপ আর্টিস্ট সাফির মাহমুদ, সহ হাসান খান, ওয়াসিফ, কাসফিয়া, নিঝুম । ফটোগ্রাফার রাহুল চৌধুরী লুনা, তানভীর খান, মুস্তফা তারিক হাদী। গ্রাফিক্স ডিজাইনার ত্রিও ভিজুয়াল, মোহনা, আদর, সৈকত, শাহাদাত, রবি, তুফায়েল, রিফাত, মোরশেদ। পোস্ট ডিজাইন মাসুম বিল্লাহ। ষ্টুডিও ডুগডুগি।

এত বড়মাপের মানুষদের কিভাবে এক করলেন?

বিজ্ঞাপন

– পলিটিক্যাল, শিক্ষা, মেডিক্যালসহ অন্যান্য পেশার মানুষদের সামাজিক কাজগুলার জন্য এস্কপেরিমেন্টাল ছবি তোলার সুযোগ হয়ে উঠে না, কারণ তাদের প্রফেশনটাই ভিন্ন। আবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির মডেলদের সামাজিক এই ধরণের কাজে খুব একটা দেখা যায় না, আবার নাটকের আর্টিষ্টদের ফ্যাশন রিলেটেড কাজ কম করা হয় পেশাগত কারণেই সবার এই ধরণের কাজ করা হয় না। তাই ভাবলাম এমন কিছু করবো যাতে সবাইকে একসাথে করে মানুষেরকে সচেতন করা যায়। আমার সাড়ে ১৪ বছরের ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে যাদের সাথে কাজ করা হয়েছে কিন্তু হয়নি চিনি অথবা চিনি না আমার থিমের সাথে চেহারা মিলে গেলেই নক করেছি।

এটিকে কেন কোলাবোরেশন প্রজেক্ট বলা হচ্ছে?

– এটি সম্পূর্ন আমার ব্যক্তি উদ্যোগে করা একটি প্রজেক্ট। এছাড়া নোকিয়া, এম এম সি, ইগলু, ইফাদ, এসি আই, সুজুকি, দারাজ, ওয়াল্টন, শান্তা, নগদ, অনন্যা ম্যাগাজিন, অনেশ্বা প্রকাশন, লাইভ টেক,হারনেট, মাদল, ঢাকাইয়া পাকি, স্পাইস এফ এম, টাইগার মিডিয়া, র্যাক সিরামিকস, ড্যান কেক, জীমস কালেকশন, অরেঞ্জি, রঙ, সাদা কালো , প্রেমস কালেকশন, গ্রামীণ চেক, ক্যাটস আই, ইউজিবি, রেড অরিজিন, এনটিভি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানি, ফ্যাশন ব্যান্ড এবং ইউনিসেফ, ইউএনডিপি সহ মোট ৪১ টি প্রতিষ্ঠান স্টুডিও, খাবার , পোশাক, প্রমোশন, রিসার্চ ইত্যাদি লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে এই প্রজেক্টের ফটোশুট সেগমেন্টে কোলাবরেশনে কাজ করেছে।

– ব্যক্তি উদ্যোগে প্রজেক্ট করে আপনার লাভ কী?

– টাকার জন্য কেউ এক্সপেরিমেন্টাল করে না। এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে কেউ কেন টাকা দেবে? এটি আমার প্রায় ৪-৫ বছরের রিসার্সের একটি প্রজেক্ট। একইরকম সামাজিক কাজ দেখতে দেখতে দর্শক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, তাই ভাবলাম একই বিষয়গুলো ভিন্নভাবে করা যেতে পারে। তাই সবার চেহারা নিয়ে স্টাডি করে আইডিয়া ডেভেলোপ করে সবাইকে নিয়ে কাজটি করেছি।

আপনার টার্গেট দর্শক কারা?

– একটি বাচ্চা মুখে রঙ লাগানোর জন্য দেখবে, একজন তরুণ দর্শক আর্টিষ্টের ফেইসভ্যালুর জন্য দেখবে আর একজন বয়স্ক লোকের কাছে পুরাটাই হিবিজিবি মনে হবে, কিন্তু সে দেখবে। কথা হল সবার দেখতে হবে কিন্তু সবার বোঝার দরকার নাই। এটি সবার জন্য না। এই প্রজেক্টটি আমি চাই সবাই দেখুক কিন্তু এটার বিষয়গুলো নিয়ে তারাই ভাবুক যারা ভবিষ্যতে পলিসিমেকার হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

ছবিগুলো কবে কোথায় রিলিজ হবে?

– অনেশ্বা প্রকাশন আমাদের পাবলিকেশন পার্টনার তারা ২০০ টি ছবির সঙ্কলোন আকারে একটি ম্যাগাজিন বের করবে। এই প্রজেক্টির প্রচারণায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে “ ইউ জি বি “(ইউনাইটেড গ্লোরি অব বাংলাদেশ)। আমাদের ফার্স্ট লুক রিলিজ দেওয়া হয়ে গেছে। মেইন ছবি গুলা এই মাস থেকে ইউ জি ব’র অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকে বুস্ট করা হবে। এছাড়া দি আনওয়ান্টেড টুইনসহ জড়িত কোম্পানি, সংস্থা ও ফ্যাশন ব্রান্ডেগুলার ফেইসবুক পেইজে দেখা যাবে ।

প্রামাণ্যচলচিত্রটির কি অবস্থা ?

– সম্প্রতি সিনেম্যাকিং ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে “জুরি মেনশন ডকুমেন্টারি ফিল্ম” হিসেবে পুরষ্কার পেয়েছে। এখন সেন্সরে আছে খুব শীঘ্রই কোনো টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে পাবে দর্শক। এটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা আমার। পরিচয়হীন শিশু ও বয়ঃসন্ধিকালে নারী উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এটি বানানো হয়েছে।

শেষ দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?

– দর্শক কখনওই সব হতে পারে না। আমার কাজ দেখতে ইচ্ছা হলে দেখবেন, না দেখলে নাই। কোনো অনুরোধ কিংবা মিষ্টি কথা বলতে পারবো না। একসময় দর্শকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কাট পিসও চালানো হত। দর্শকের রুচিবোধ পরিবর্তন করার দায়িত্ব নির্মাতার। নির্মাতাদের মেরুদণ্ড শক্ত রাখতে হবে। আমাদের দেশে নকলও ঠিক মত করতে পারেনা। কপি করে যা বানায় তা কপিরও ধারে কাছে যায় না। মৌলিক জিনিসের জন্য গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের দেশে প্রি-প্রোডাকশনকে মনে করা হয় সময় নষ্ট, মৌলিক আসবে কোথা থেকে? আপনি অনুরোধ করেন আর যাই করেন, দর্শক সেটাই দেখবে যেটা তার ভালো লাগবে। আপনার সীমাবদ্ধতা দেখার জন্য দর্শক বসে নাই, তাদের জীবনেও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাই অহেতুক কথা বাদ দিয়ে মার্কেট অ্যানালাইসিস করে কাজ করা প্রয়োজন।